দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল বিক্রি। তবে এ সিদ্ধান্ত নমনীয় হয়েছে সৌদি আরব সরকার। অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য অ্যালকোহল বিক্রির দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে দেশটি। তবে কেবল তাদের জন্য, যাদের উপার্জন নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম—বিশেষত রক্ষণশীল ধারার অনুসারীরা—কোরআনে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য থেকে বিরত থাকেন।
ইসলাম সৌদি আরবের রাষ্ট্রধর্ম হওয়ায় কোরআনের নীতিগুলিই অনেক আইন ও সামাজিক বিধিনিষেধে প্রতিফলিত হয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা যেমন বাতিল হয়েছে, তেমনি আরও কিছু নিয়ম পরিবর্তিত হয়েছে।
এখন, অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারা সৌদি আরবে অ্যালকোহল কিনতে পারবেন — কিন্তু শুধুমাত্র তখনই যদি তারা মাসে ৫০ হাজার রিয়াল (প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ ডলার) এর বেশি আয় করেন, এমনটাই ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সৌদি আরবে গড় মাসিক বেতন হলো ১০ হাজার ২৫০ রিয়াল (প্রায় ২ হাজার ৭৫০ ডলার), এক সৌদি আইন সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে।
নতুন সুবিধাটি নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের দেশটির একমাত্র মদের দোকানে প্রবেশের জন্য আয়-সনদ দেখাতে হচ্ছে, যা রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত — এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।
এই মদের দোকানটি গত বছর খোলা হয়েছিল এবং তখন শুধুমাত্র বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে মদ বিক্রি করা হতো, তবে সম্প্রতি এটি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসধারী অমুসলিমদের জন্যও খুলে দেওয়া হয়েছে।
‘প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম’ বা সৌদি গ্রিন কার্ড মূলত ‘দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, প্রতিভাবান ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারী’ বিদেশিদের জন্য, যারা গত পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৩০ মাস সৌদি আরবে বসবাস করেছেন — এমনটি জানায় সৌদি ভিসা ওয়েবসাইট।
গ্রাহকদের আগে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মদের দোকানে যাওয়ার জন্য স্লট বুক করতে হতো, যেখানে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি ক্লিয়ারেন্স কোড পেতেন এবং তাদের কেনাকাটায় মাসিক কোটা নির্ধারণ করা হতো।
এ ধরনের একটি ব্যবস্থা এখনও চালু রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য গ্রাহকরা পয়েন্ট-ভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে কেনাকাটা করেন, যা মাসিক বরাদ্দ (অ্যালাউয়েন্স) নির্ধারণ করে।
এই পদক্ষেপগুলো সৌদি আরবের রাজধানীকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে বিদেশিদের সংখ্যা বাড়ানোও এর উদ্দেশ্য।
এবি/