দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের জুন মাসে ইরানে হামলা চালিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধের যুদ্ধের সূচনা করেছিল ইসরায়েল। জবাবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সে সময় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছিল।
স্থানীয় সময় রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক অনুষ্ঠানে এমনটি জানিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি-মোহাম্মদ নায়িনি। খবর প্রেস টিভি
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ‘মধ্য‑জুনে যুদ্ধ শুরু হতেই, ইসরায়েল তেহরানের একটি জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালায়। এর পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ইরান প্রতিক্রিয়া জানায়।’ প্রথমে তারা দুই ধাপে হাইফা তেল শোধনাগারে হামলা চালায়, যা নায়িনি বর্ণনা করেন ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মাস্টারপিস’ হিসেবে। এই হামলায় শোধনাগার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর, ইসরায়েল ইরানের একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র আক্রমণ করলে, ইরান মোসাদের এক স্থাপনায় প্রতিহামলা চালায়। নায়িনি জানান, সেই হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রু প্রমিজ ৩’ অপারেশন যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যকর ছিল। এটি একটি বহু-স্তরীয়, আধুনিক মিশ্রিত অপারেশন, যেখানে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার অপারেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা পুরো সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য ও পূর্ণ প্রস্তুতিতে ছিল।
নায়িনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেশি কার্যকর ছিল। তারা একটি ৩২ তলা ভবনের ‘নিচের এক তলা’ পর্যন্ত লক্ষ্য করেছিল, যা দখলপ্রাপ্ত প্লেস্টাইনের একটি স্টক এক্সচেঞ্জ ডেটা সেন্টার ছিল।
যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন সামরিক সাহায্য ব্যবহার করলেও, আইআরজিসি দাবি করছে তা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। নায়িনি বলেন, ‘এক শিশিনেক ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক গুণ বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম।’
আইআরজিসি-এর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ১২ দিনের যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক লড়াই নয়; এটি ছিল তথ্য, সাইবার, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা আধিপত্য নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ, যেখানে ইরান দাবি করেছে তারা সফলভাবে প্রতিরক্ষা বজায় রেখেছে।