দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন। বৃহস্পতিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা হবে। তবে কোন কোন দেশ এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে—তা তিনি পরিষ্কার করে বলেননি।
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পরই ট্রাম্প এই অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি আফগান বংশোদ্ভূত। একজন সদস্য পরে মারা যান। ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনার পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো বিদেশিকে রাখা হবে না ‘যার থাকার অধিকার নেই’। একই দিন যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার অভিবাসন দপ্তর জানায়, ১৯টি দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের দেওয়া গ্রিন কার্ড পুনরায় যাচাই করা হবে। হোয়াইট হাউসের আগের ঘোষণায় আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেন, শরণার্থীদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সামাজিক বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হয়েছে এবং তিনি ‘যারা দেশের জন্য সম্পদ নয়’—এমন কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দেবেন না। তিনি বলেন, কিছু অঙ্গরাজ্যে বিশেষ করে সোমালীয় বংশোদ্ভূত শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় রাজনীতিকদের ব্যর্থতার ফল।
ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিস্টেমকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হতে দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেব।’
তিনি আরও জানান, অ-নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ফেডারেল ভাতা ও সুবিধা বন্ধ করা হবে।
এদিকে, অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ম্যাককিনি বলেন, ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনায় উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু ট্রাম্প সেই ঘটনাকে অভিবাসীদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করছেন। তার দাবি, ‘এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জাতি বা জাতীয়তার সম্পর্ক নেই। যে কেউ উগ্রবাদে জড়াতে পারে বা মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে।’
ওয়াশিংটন ডিসির ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। সে সময় আফগানিস্তানে তালেবানের দখলদারির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষায় নেওয়া হয়। তিনি চলতি বছর আশ্রয় পান। গুলির ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না।
গুলিতে আক্রান্ত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের একজন ২০ বছর বয়সী সারা বেকস্ট্রম মারা গেছেন। অপর সদস্য অ্যান্ড্রু উলফ জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/