দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহসিকতা’ বেছে নেয়।
শুক্রবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ কখনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগের একদিন পর এ মন্তব্য করেন আরাগচি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে সংঘর্ষের মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে। ইতালিতে সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এটি একটি গুরুত্ববহ প্রস্তাব হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে আটকে থাকা প্রায় দুই হাজার জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল তারা। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধও বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন, যাতে তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দেওয়া যায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী জাহাজ ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলোকে বাধা দেওয়া হয়। সেন্টকমের ভাষ্য, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
তারা আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে জাহাজ দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত করে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের দাবি, বর্তমানে ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকের লক্ষ্য লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনার উদ্দেশ্য ‘ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন এগিয়ে নেওয়া’।
তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে।
এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ সব পক্ষকে আলোচনায় যুক্ত হয়ে সংকটের ‘মূল কারণ’ সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে ‘উসকানিহীন হামলা’ চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলাও চালানো হয়েছে।
ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানান, মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং নিখোঁজদের খোঁজ চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক ছোট নৌকা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ যেমন তাদের থামানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে থামানো হবে, যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে সই না করে।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/