দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তারা এখনো পায়নি। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ভিশন’ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
মার্কিন পরিকল্পনার খসড়া অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কিছু এলাকা রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনী ছোট করা এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার মতো শর্ত রয়েছে—যা আগে থেকেই কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এসব শর্ত রাশিয়ার পক্ষে ঝুঁকে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রুশ হামলায় বৃহস্পতিবার রাতে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে পাঁচজন এবং দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে একজন নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটিতে রাশিয়া সামান্য অগ্রগতির দাবি করেছে, আর কিয়েভ অভ্যন্তরীণভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির ঘটনায় চাপে রয়েছে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, শান্তি-পরিকল্পনা তৈরিতে ইউক্রেনকে বাদ দেওয়া হয়নি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে আলোচনার পরই খসড়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বেশিরভাগ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে উমেরভ বলেছেন, তিনি পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি এবং এখনো ‘সহযোগী দেশগুলোর প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে’।
জেলেনস্কি প্রকাশ্যে পরিকল্পনার সমালোচনা করেননি। তিনি বলেন, ‘ইউরোপে নিরাপত্তা ফেরাতে ট্রাম্প ও তার দলের উদ্যোগকে আমরা মূল্য দিই।’ তার কার্যালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মতে এই প্রস্তাব কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। জেলেনস্কি শিগগিরই ট্রাম্পের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘কিছু নতুন তথ্য দেখছি, কিন্তু এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি। এসব বিষয়ে কোনো গঠনমূলক আলোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, রাশিয়া ‘শান্তি আলোচনায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।’
রাশিয়ার মতে, যেকোনো চুক্তিতে ‘সংঘাতের মূল কারণ’ সমাধান করতে হবে—যা কিয়েভের কাছে আত্মসমর্পণের মতো শোনায়। এদিকে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়ার বড় দুটো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রক্রিয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে, যেখানে রাশিয়া আর কোনও এলাকা দখল করতে পারবে না। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, পরিকল্পনা খসড়া তৈরিতে ইউরোপ অংশ নেয়নি। তার ভাষায়, ‘কোনো পরিকল্পনা সফল করতে হলে ইউক্রেন ও ইউরোপকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেন, এটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নয়, বরং ‘বিষয় ও বিকল্পের তালিকা’। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস জেলেনস্কির সঙ্গে খসড়া নিয়ে আলোচনা করেছেন।
খসড়ায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার ৬ লাখে সীমিত রাখা, কিছু অস্ত্র পরিত্যাগ করা এবং পোল্যান্ডে ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে। ইউক্রেনকে ‘বিশ্বস্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, তবে বিস্তারিত জানা যায়নি। ন্যাটো বিস্তার না করা এবং রাশিয়া পাশের দেশগুলোতে আক্রমণ করবে না—এমন প্রত্যাশাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা এবং জি৭-এ আবার যোগ দেওয়ার পথ তৈরি করা যেতে পারে।
মার্কিন প্রস্তাবের খবরে ইউক্রেনের মানুষের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট—অনেকে মনে করছেন এটি শান্তি নয়, বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার রূপরেখা। কিয়েভে এক শহীদ সেনার স্ত্রী বলেন, ‘এটা শান্তি পরিকল্পনা নয়, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।’ দখলকৃত অঞ্চল থেকে এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রচারণার মাঝে মানসিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। আশা করি এমন কোনো চুক্তি হবে না।’
জাপোরিঝঝিয়ায় এক ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ইউক্রেন একা যুদ্ধ থামাতে না পারলে ইউরোপের এগিয়ে আসা উচিত।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/