দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে তিনি সম্মতি দিতে যাচ্ছেন। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের আগের দিন সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটা করব। আমরা এফ-৩৫ বিক্রি করব।’
এ ধরনের বিক্রি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের ‘গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠতা’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব সর্বোচ্চ ৪৮টি এফ-৩৫ কেনার অনুরোধ করেছে। কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য চুক্তি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক অনুমোদনও পেয়েছে।
সৌদিরা বহুদিন ধরে লকহিড মার্টিনের তৈরি এ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এই বিষয়ে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে কথা বলতে চান, তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলা ও নিজস্ব বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে সৌদি আরব সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটির বিমানবাহিনীতে আগে থেকেই বোয়িং এফ-১৫, ইউরোপীয় টর্নেডো ও টাইফুন যুদ্ধবিমান রয়েছে।
বছরের শুরুতে সৌদি আরব সরাসরি ট্রাম্পকে এফ-৩৫ কেনার অনুরোধ জানিয়েছিল। কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে পেন্টাগনের নীতি বিভাগ কাজ করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখে যে, ইসরায়েল যেন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি উন্নত মার্কিন অস্ত্র পায়। এফ-৩৫ হলো স্টেলথ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান, যা ইসরায়েল প্রায় এক দশক ধরে ব্যবহার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধবিমান এখনো শুধু ইসরায়েলের কাছেই আছে।
এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। আগের মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল, বিনিময়ে রিয়াদ যেন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে সে উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত এগোয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসও এই বিক্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর রিয়াদের সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি নিয়ে অনেক আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন। এখনো অনেকেই সৌদির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র- রয়টার্স
এমএস/