দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের হেফাজতে গত দুই বছরে অন্তত ৯৪ ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটককৃত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। তাদের নতুন প্রতিবেদনে এসব মৃত্যুকে ‘পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড ও গোপন করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ থেকে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে তৈরি। সংগঠনটি বলছে, আগের ১০ বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে ফিলিস্তিনির মৃত্যু ছিল ৩০ জনেরও কম।
ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা আইন মেনে বন্দিদের দেখভাল করে এবং চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিধি ও ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করে। তবে বাইরের সংস্থার কোনো পরিসংখ্যান বা অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করেনি।
৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই বন্দি অবস্থায় আছেন।
পিএইচআরআই বলছে, সংঘাত শুরুর পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নীতির অংশ হিসেবে ‘নিরাপত্তা বন্দি’ হিসেবে আটক ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ ধারা চালু হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রেডক্রসের কাছেও আর কোনো তথ্য দিচ্ছে না এবং আটক কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
প্রতিবেদনটি সরকারি নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট, অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য ও আটক ব্যক্তিদের পরিবার, আইনজীবী এবং মুক্তিপ্রাপ্তদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে বলা হয়, নিহত ৯৪ জনের মধ্যে ৫২ জন সামরিক কারাগার ও ৪২ জন আইপিএস পরিচালিত সাধারণ কারাগারে ছিলেন।
সংগঠনটির দাবি, এসব মৃত্যু ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা—বা দুটোর সম্মিলিত কারণে।
তারা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতিকে বিশেষভাবে দায়ী করেছে। পিএইচআরআইয়ের ভাষ্যে, তার নিয়ন্ত্রণে ফিলিস্তিনিদের জন্য কারাগারগুলো ‘নির্যাতন ও নির্ভরযোগ্য মানবাধিকারবঞ্চনার স্থানে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের শারীরিক নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতি বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
সর্বাধিক ২৯টি মৃত্যু ঘটেছে দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক কারাগারে। এখানে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মারধর ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাঁচ ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব মৃত্যু ও নির্যাতনের তদন্ত এড়ানোর চেষ্টা, পরিবারকে মৃত্যুসংবাদ না দেওয়া, ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় না আনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া ‘জোরপূর্বক গুম’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, হাজারো ফিলিস্তিনি কোথায় আছেন তা পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত জানেন না।
সংগঠনটি বলছে, আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
আইপিএস বলেছে, পিএইচআরআইয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলো তাদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মেলে না। তারা প্রত্যেক মৃত্যুর তদন্ত করার নিয়ম অনুসরণ করে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে কাজ করে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে লোকজনকে আটক করে। কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন, আর অনেককে ‘যুদ্ধ থেকে সরিয়ে রাখতে’ প্রতিরোধমূলক আটক রাখা হয়। আইডিএফ বলছে, হেফাজতে মৃত্যুর কিছু ঘটনা আছে, যার মধ্যে আগেই অসুস্থ বা আহত ব্যক্তিও ছিলেন। প্রতিটি মৃত্যু সামরিক পুলিশ তদন্ত করে থাকে।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/