দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকা সত্ত্বেও অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় রপ্তানি এক মাসে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। পাঁচ মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে এটি প্রথম বৃদ্ধি।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক এবং রাশিয়ার তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানি হঠাৎ কমে যায়।
নতুন রপ্তানি তথ্য এমন সময়ে এলো, যখন ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করতে সম্মত হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃষি খাতে পারস্পরিক শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন, যা ভারতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বলে ভারতের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে, অক্টোবর মাসে ভারতের মোট পণ্য রপ্তানি বছরে তুলনায় কমেছে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে ১৫টিতেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমেছে।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘যেসব খাত শুল্কমুক্ত— যেমন স্মার্টফোন ও ওষুধ— সেগুলো ভালো করেছে বলেই মনে হচ্ছে, যদিও এটি আপাত ধারণা।’ তিনি আরও জানান, অক্টোবরের এই উন্নতি সত্ত্বেও মে থেকে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এতে মাসিক রপ্তানি আয় কমেছে আড়াই শ কোটি ডলারের বেশি।
তবে ধীরে ধীরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা হালকা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার ভারত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বড় একটি চুক্তি হয়েছে, যার ফলে দেশটির মোট বার্ষিক এলপিজি চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ভারতের জ্বালানি মন্ত্রী হার্দিপ সিং পুনি একে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি আমদানি বাড়াতে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে আহ্বান জানাচ্ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের একটি হয়ে ওঠে। গত বছর ভারত রাশিয়া থেকে ৫২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তেল কিনেছিল, যা তাদের মোট তেল আমদানির ৩৭ শতাংশ।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আগামী মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লি সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হতে পারে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে।
সোমবার এক সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, বাণিজ্যচুক্তির প্রথম ধাপ ‘প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে’। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চা, কফি, মসলা–সহ বেশ কিছু কৃষিপণ্যের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় কৃষিপণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/