দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া করা একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য গাজার নাজুক যুদ্ধবিরতি থেকে আরও স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়া। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটে ১৫ সদস্যের পরিষদের ১৩টি দেশ সমর্থন দেয়, আর রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক সমর্থন দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়। এই পরিকল্পনার কিছু অংশ গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ভিত্তি ছিল। প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের শক্তিশালী নেতাদের নিয়ে যে বোর্ড অব পিস গঠন করা হবে, তার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করব আমি।’
প্রস্তাবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ এবং গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসহ বৈশ্বিক অংশীদারদের নিয়ে এই বাহিনী গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরস্ত্রীকরণ তদারকি করা, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছাতে নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করবে।
ওয়াশিংটনের দাবি, প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় আইএসএফ গঠনে দেশগুলোর অংশগ্রহণের জন্য এখন জাতিসংঘের বৈধতা মিলেছে। তবে বাস্তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে। খসড়া প্রস্তাবে সময়সূচি ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পশ্চিমা কূটনৈতিক মহল।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বোর্ড অব পিস হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন তদারকি করবে—যা ইসরায়েলের মূল দাবি। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ আছে, যদিও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
রাশিয়া ও চীন দুই দেশই প্রস্তাবে নিরপেক্ষতা এবং ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব প্রতিফলনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ভোটদানে বিরত থাকে।
হামাস প্রস্তাবটিকে গাজায় আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, আইএসএফ–কে নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব দিলে সেটি ‘নিরপেক্ষতা হারিয়ে সংঘাতের পক্ষ হয়ে পড়বে’। গাজার সাধারণ মানুষেরও আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাহিনী তাদের জীবনে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েল জোর দিয়ে বলছে, যেভাবেই হোক—গাজা নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এটি ‘বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বোর্ড অব পিস মানবিক সহায়তা বিতরণ, গাজার উন্নয়ন এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের দিয়ে দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনায় সহায়তা করবে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের যে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে, তার বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি।
সূত্র- সিএনএন
এমএস/