দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।
রোববার (২ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, ‘এসব আসল পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়। আমরা যাকে বলি “নন-ক্রিটিক্যাল এক্সপ্লোশন” অর্থাৎ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ছাড়া অন্যান্য অংশের পরীক্ষা।’
এর আগে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছিলেন, তিনি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সমান ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে। এরপরই এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তবে রাইট বলেন, নেভাদা মরুভূমির কাছাকাছি বসবাসরত আমেরিকানদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘নেভাদা ন্যাশনাল সিকিউরিটি সাইটের আশপাশে বসবাসকারীদের কোনো চিন্তা করার কারণ নেই। এসব পরীক্ষায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হবে না, বরং অস্ত্রের অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করে সঠিক গঠন ও প্রস্তুতি যাচাই করা হবে।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর অনেকে মনে করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্যে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘আমরা অন্য দেশের মতোই পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করব।’ তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ও চীন এমন পরীক্ষা চালাচ্ছে, যদিও তারা তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে না।
তবে রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই ১৯৯০ ও ১৯৯৬ সালের পর থেকে কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালায়নি। সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে চীন আত্মরক্ষামূলক নীতিতে বিশ্বাস করে এবং পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও বলেছেন, রাশিয়া কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তিনি বলেন, ‘পসেইডন ও বুরেভেস্তনিক অস্ত্রের পরীক্ষার তথ্য সঠিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে আমরা আশা করি। তবে এগুলো কোনোভাবেই পারমাণবিক পরীক্ষা নয়।’
বর্তমানে উত্তর কোরিয়াই একমাত্র দেশ, যারা ১৯৯০ সালের পর পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও ২০১৮ সালে দেশটি পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল।
আমেরিকান সায়েন্টিস্ট ফেডারেশনের তথ্যানুসারে, রাশিয়ার হাতে প্রায় ৫ হাজার ৪৫৯টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ৫ হাজার ১৭৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে। চীনের কাছে রয়েছে প্রায় ৬০০টি, ফ্রান্সের ২৯০টি, যুক্তরাজ্যের ২২৫টি, ভারতের ১৮০টি, পাকিস্তানের ১৭০টি, ইসরায়েলের ৯০টি এবং উত্তর কোরিয়ার ৫০টি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর মতে, গত পাঁচ বছরে চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা এক হাজারের বেশি হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/