দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (২ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে) আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের কাছে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩ এবং ভূকম্পনের গভীরতা ছিল ২৮ কিলোমিটার। সংস্থাটি একে ‘কমলা সতর্কতা’ পর্যায়ে চিহ্নিত করেছে, যার মানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩০ জন আহত হয়েছেন।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র হাজি জাইদ জানান, মাজার-ই-শরিফের দক্ষিণাঞ্চলীয় শোলগারা জেলায় অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ আহত ব্যক্তি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।’
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এতে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান থেকে আসা বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কাবুলসহ অনেক এলাকায় ব্ল্যাকআউট হয়।
মাজার-ই-শরিফের ঐতিহাসিক নীল মসজিদেও (ব্লু মসজিদ) কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৫শ শতকে নির্মিত এই মসজিদে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও ইসলামের প্রথম শিয়া ইমাম হজরত আলীর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
এছাড়া সামাঙ্গান প্রদেশেও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় প্রায়ই এমন দুর্যোগের মুখে পড়ে। দুর্বল অবকাঠামো ও কাঁচামাটির ঘরবাড়ির কারণে প্রতিবারই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/