দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সময় হয়তো ফুরিয়ে আসছে।
রোববার (২ নভেম্বর) সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার তা মনে হয় না। আমি সন্দেহ করছি। তবে তারা আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করছে।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে মাদকবাহী নৌযানের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ রোধের জন্য জরুরি। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব হামলার আসল লক্ষ্য মাদুরো সরকারকে সরিয়ে দেওয়া। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, এটি ‘অনেক কিছুর অংশ’।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবন থেকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রতিটি নৌকা যেটিকে গুলি করা হয়, তা ২৫ হাজার মানুষের জীবনে মাদক ছড়িয়ে দেয় এবং আমাদের দেশজুড়ে পরিবার ধ্বংস করে।’
স্থলভাগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালাতে পারে কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জবাব দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখনই কিছু বলতে চাই না। ভেনেজুয়েলা নিয়ে আমি কী করব বা করব না—তা আপনাকে জানাতে চাই না।’
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নতুন যুদ্ধ তৈরি করার’ অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দাবি করেছেন, নৌযানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে দেব না। তারা কঙ্গো থেকে আসে, আসে সারা বিশ্ব থেকে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে—সেখানে গ্যাং আছে।’ তিনি ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামের একটি অপরাধী চক্রকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর গ্যাং হিসেবে আখ্যা দেন।
পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, আমরা কেন করব না?’ যদিও রাশিয়া ১৯৯০ সালের পর ও চীন ১৯৯৬ সালের পর কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলে না। আমি একমাত্র দেশ হতে চাই না যে পরীক্ষা করছে না।’ তিনি উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানকেও পরীক্ষাকারী দেশগুলোর তালিকায় উল্লেখ করেন।
তবে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, যুক্তরাষ্ট্র আসল পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। এসব পরীক্ষা হবে ‘অপ্রধান বিস্ফোরণ’, যা অস্ত্রের কাঠামো যাচাইয়ের জন্য করা হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চলমান সরকারি অচলাবস্থা নিয়েও কথা বলেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের ‘পাগল’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে।’ তবে তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত তারা বাধ্য হয়ে সমঝোতায় আসবে।
এটি ছিল ট্রাম্পের সিবিএসের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকার, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে চ্যানেলটির মূল প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা করার পর। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাক্ষাৎকারটি এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়েছিল যাতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সুবিধা হয়।
পরে মামলা মীমাংসায় প্যারামাউন্ট ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধে রাজি হয়, তবে অর্থটি ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির তহবিলে যাবে—ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে নয়।
ট্রাম্প সর্বশেষ ‘৬০ মিনিটস’-এ অংশ নিয়েছিলেন ২০২০ সালে, যখন তিনি সাংবাদিক লেসলি স্টাহলের প্রশ্নকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে সাক্ষাৎকার মাঝপথে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/