দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি স্বীকার করেছেন, পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরোভস্ক রক্ষায় ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির’ মুখে পড়েছে। তিনি জানান, সেখানে ইউক্রেনীয় সেনারা ‘বহুসংখ্যক শত্রু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে লড়ছে।
সিরস্কি রুশ পক্ষের দাবি অস্বীকার করেছেন যে ইউক্রেনীয় সেনারা শহরটিতে অবরুদ্ধ বা চারদিক থেকে ঘেরা। তিনি নিশ্চিত করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ রক্ষায় ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যদিও এসব পথ রুশ গোলার আগুনের নিচে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কয়েকজন ইউক্রেনীয় সেনা আত্মসমর্পণ করেছে এবং হেলিকপ্টারযোগে নামানো ইউক্রেনের ১১ জন বিশেষ বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। তবে কিয়েভ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিরস্কি বলেন, তিনি আবারও পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ফ্রন্টে গিয়ে সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে সরাসরি পরিস্থিতি শুনেছেন। প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র পর্যালোচনা করতে দেখা যায়, যেখানে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভও উপস্থিত ছিলেন।
ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুদানভ নিজে বিশেষ বাহিনীর অভিযান তদারকি করতে দোনেৎস্ক এলাকায় অবস্থান করছেন। বিশেষ বাহিনী পাঠানোর অর্থ হলো, কিয়েভ পোকরোভস্ক শহরটি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শহরটি দখলের চেষ্টা রাশিয়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের সপ্তম র্যাপিড রেসপন্স কর্পস জানিয়েছে, পোকরোভস্কে তাদের সেনারা কৌশলগতভাবে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো ‘জটিল ও পরিবর্তনশীল’।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, পোকরোভস্ক রক্ষা করা এখন তাঁর সরকারের ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার’।
রাশিয়ার দখল করা দোনেৎস্ক শহরের পশ্চিমে অবস্থিত এই কৌশলগত শহর ঘিরে রুশ অগ্রযাত্রার খবর বাড়ছে। শুক্রবার প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা যায়, ইউক্রেনের একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার প্রায় ১০ জন সেনাকে শহরের কাছাকাছি নামিয়ে দিচ্ছে—যদিও ছবির সময় ও স্থান যাচাই করা যায়নি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনীর ওই অবতরণ ঠেকিয়ে দিয়েছে এবং সব ১১ জন সেনাকে হত্যা করেছে।
ইউক্রেনের ওপেন সোর্স মনিটরিং গ্রুপ ডিপস্টেট জানায়, পোকরোভস্কের প্রায় অর্ধেক এলাকা এখন ‘গ্রে জোন’ বা উভয় পক্ষের অনিয়ন্ত্রিত অঞ্চল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানায়, ইউক্রেনীয় বাহিনী সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় শহরের উত্তরাংশে সামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে পোকরোভস্ক এখনো মূলত ‘গ্রে জোন’ হিসেবেই রয়ে গেছে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা চালায় এবং বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে।
পোকরোভস্ক দখল করতে পারলে রাশিয়া দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—এই দুই অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে বড় সাফল্য পাবে। অন্যদিকে, কিয়েভ মনে করে এই শহর দখল রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সাহায্য করবে যে তারা যুদ্ধে এগিয়ে আছে, যা পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করতে পারে।
ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ক্রেমলিনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার দুই বৃহৎ তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন।
জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন, যা বর্তমান সীমারেখা ধরে যুদ্ধ ‘স্থগিত’ রাখার আহ্বান জানায়। কিন্তু পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করে আগের দাবিতেই অনড় রয়েছেন, যা কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো ‘ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখছে। সূত্র: বিবিসি।
এমএস/