দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর সহিংসতা ঠেকাতে দেশটি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না—এ অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিরক্ষা দপ্তরকে (পেন্টাগন) সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, নাইজেরিয়ায় ‘খ্রিস্টানদের গণহত্যা’ চলছে এবং দেশটি যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেবে’।
দীর্ঘ বার্তায় তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘গানস-আ-ব্লেজিং’ (অস্ত্র হাতে) নাইজেরিয়ায় প্রবেশ করে ইসলামি জঙ্গিদের নির্মূল করবে, যারা এসব নৃশংসতা ঘটাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগকে সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিচ্ছি। যদি আমরা আক্রমণ করি, তা হবে দ্রুত, ভয়ঙ্কর ও কার্যকর—যেভাবে সন্ত্রাসীরা আমাদের প্রিয় খ্রিস্টানদের আক্রমণ করে।’
এর কিছু পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে লেখেন, ‘জি স্যার।’ তিনি যোগ করেন, ‘নাইজেরিয়ায় নিরীহ খ্রিস্টান হত্যাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নাইজেরিয়া যদি তাদের সুরক্ষা না দেয়, আমরা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করব।’
শুক্রবার ট্রাম্প নাইজেরিয়াকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনকারী দেশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তার দাবি, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে এবং দেশটি ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ।
অন্যদিকে, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ মূল্যায়ন নাইজেরিয়ার বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। তিনি বলেন, তার সরকার সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করছে।
টিনুবুর প্রেসসচিব বায়ো অনানুগা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘নাইজেরিয়ায় কেবল খ্রিস্টান নয়, মুসলিম, চার্চ ও মসজিদও নির্বিচারে আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আমাদের দেশকে “ধর্মীয় উদ্বেগের রাষ্ট্র” ঘোষণার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, যাতে আমরা উগ্রপন্থীদের মোকাবিলা করতে পারি।’
হোয়াইট হাউস ও নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/