দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইউএফও–সংক্রান্ত বহু গোপন নথি প্রকাশ করেছে। এতে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের দেখা রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু থেকে শুরু করে চাঁদে থাকা নভোচারীদের অদ্ভুত আলোর ঝলক দেখার বর্ণনাও উঠে এসেছে।
দশকজুড়ে সংরক্ষিত এসব নথি শুক্রবার (৯ মে) অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ‘জনগণের ব্যাপক আগ্রহের ভিত্তিতে’ ইউএফও–সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ভিনগ্রহের প্রাণ ও ইউএফও নিয়ে আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। ২০২২ সালে ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে ইউএফও নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে মার্কিন সামরিক বাহিনীও এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়।
পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত ১৬১টি নথি প্রকাশ করা হয়েছে। আরও নথি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এলিয়েন বাস্তব, তবে আমি নিজে দেখিনি।’ পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা পরিসংখ্যানগতভাবে রয়েছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি এর কোনো প্রমাণ পাননি।
এর পরই ট্রাম্প পেন্টাগনকে ‘এলিয়েন, ভিনগ্রহের প্রাণ, অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি) এবং ইউএফও–সংক্রান্ত নথি’ প্রকাশের নির্দেশ দেন।
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ১১, অ্যাপোলো ১২ ও অ্যাপোলো ১৭ চন্দ্রাভিযানের সময়কার গোপন ট্রান্সক্রিপ্ট।
অ্যাপোলো ১১–এর নভোচারী বাজ অলড্রিন ১৯৬৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চাঁদে যাওয়ার পথে তিনি রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখেছিলেন। তার ভাষায়, সেটিকে তারা সম্ভাব্য লেজার উৎস বলে ধারণা করেছিলেন।
অ্যাপোলো ১২–এর নভোচারী অ্যালান বিন জানান, তিনি মহাকাশে ভেসে যাওয়া কণা ও আলোর ঝলক দেখেছিলেন, যা তার কাছে মনে হয়েছিল যেন চাঁদ থেকে বেরিয়ে আসছে।
অন্যদিকে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের দুই নভোচারীও উজ্জ্বল ঝলকানি দেখার কথা উল্লেখ করেন। নভোচারী জ্যাক স্মিট বলেন, ‘বাইরে যেন আতশবাজির উৎসব চলছে।’ যদিও পরে তারা ধারণা করেন, এগুলো বরফের টুকরোর প্রতিফলনও হতে পারে।
আরেকটি নথিতে ১৯৬৫ সালের জেমিনি-৭ মহাকাশযানের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে নভোচারী ফ্রাঙ্ক বোম্যান নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানান, তিনি মহাকাশযানের পাশে অজ্ঞাত একটি বস্তু ও অসংখ্য ক্ষুদ্র কণা দেখতে পেয়েছেন।
প্রকাশিত নথিতে সাধারণ মানুষের বহু ইউএফও দেখার দাবিও রয়েছে। ১৯৫৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে এক ব্যক্তি এফবিআইকে জানান, তিনি মাটি থেকে একটি বড় গোলাকার যান আকাশে উঠতে দেখেছেন।
এছাড়া ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের কয়েকটি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা উজ্জ্বল আলোর মধ্য থেকে ধাতব বস্তুর আবির্ভাব ও আকাশে স্থিরভাবে ভাসতে দেখার দাবি করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারণ করা কয়েকটি ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধারণ করা এসব ফুটেজে ‘অমীমাংসিত অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা’ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
একটি ভিডিওতে মধ্যপ্রাচ্যের অজ্ঞাত স্থানে ডান দিক থেকে বাম দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়া ডিম্বাকৃতির একটি বস্তু দেখা যায়, যেটিকে প্রতিবেদনে ‘সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয়েছে।
নথি প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা। টেনেসির রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টিম বারচেট এটিকে ‘চমৎকার শুরু’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান আনা পলিনা লুনাও বলেছেন, এটি ‘সঠিক পথে বড় পদক্ষেপ’।
তবে সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিন এই নথি প্রকাশকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরানোর প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতেই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/