দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
রোববার বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক... সম্ভবত দিতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হবে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘নতুন আগ্রাসনের ধাপ’।
সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওই আলোচনায় জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার জন্য আরও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা চেয়েছিলেন।
এর আগে মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, কিয়েভকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলে তা যুদ্ধের বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ককে বিপর্যস্ত করবে।
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার, যা ইউক্রেনের হাতে গেলে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও এর নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথাও বলতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি হয়তো তাদের (রাশিয়া) বলব, যদি যুদ্ধের সমাধান না হয়, তাহলে হয়তো আমরা এটা করব, আবার হয়তো করব না। কিন্তু তারা কি চায় টমাহক তাদের দিকে উড়ে আসুক? আমার মনে হয় না।’
রোববার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে রাশিয়া গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘এখন আসলেই এক নাটকীয় সময়, যখন সব দিক থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে।’
গত সেপ্টেম্বরেও পেসকভ বলেছিলেন, টমাহক সরবরাহ যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না। তবে এবার তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এসব ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার দিকে ছোড়া হয়, তবে মস্কো বুঝতে পারবে না সেগুলো পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত কি না।
‘ভাবুন তো—একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার দিকে আসছে, আমরা জানি না সেটিতে পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে কি না। রাশিয়া তখন কী ভাববে, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সোমবার সকালে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পেসকভের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘রাশিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে? একদম সেভাবেই।’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সবার জন্য খারাপ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, আর প্রথমেই ট্রাম্পের জন্য।’
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কিয়েভ একাধিকবার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে এসেছে, যাতে রাশিয়ার ভেতরের শহরগুলোতেও পাল্টা হামলা চালানো যায়।
সাম্প্রতিক ফোনালাপে জেলেনস্কি ও ট্রাম্প ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের শহরগুলো, বিশেষ করে কিয়েভ, প্রায়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীত ঘনিয়ে আসায় রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, ফলে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিদ্যুৎসংকট।
গত মাসে ট্রাম্পের বিশেষ দূত কিথ কেলগ এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/