দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতজন জিম্মিকে ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পরই অবশিষ্ট ১৩ ইসরায়েলি জিম্মিকেও মুক্তি দিয়েছে হামাস।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন—এলকানা বাহবোত, অ্যাভিনাতান ওর, ইউসেফ-হাইম ওহানা, ইভায়াতার ডেভিড, রম ব্রাসলাভস্কি, সেগেভ কালফন, নিমরোদ কোহেন, ম্যাক্সিম হেরকিন, এইতান হর্ন, মাতান জাঙ্গাউকের, বার কুপেরশতেইন, ডেভিড কুনিও এবং এরিয়েল কুনিও।
প্রথম দফার মতো এবারও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রসের কাছে জিম্মিদের হস্তান্তর করে হামাস, পরে রেড ক্রস তাদের ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে পৌঁছে দেয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। সে সময় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়। এটি ছিল ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা (১৯৪৮ সালে দেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে)।
পরদিন, ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। দুই বছরের সেই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন।
দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে এর আগে একাধিকবার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যার সময় হামাস ধাপে ধাপে কিছু জিম্মিকে ছেড়ে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন জিম্মি তাদের হাতে রয়ে গিয়েছিল।
হামাস জানিয়েছিল, তাদের মধ্যে জীবিত আছেন মাত্র ২০ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আসে। ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই এতে সম্মতি দেওয়ার পর গত শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সোমবার সকালে হামাস প্রথমে ৭ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়, এরপর বাকি ১৩ জনকেও ছেড়ে দেয় দুপুরে। এর ফলে গাজায় আর কোনো ইসরায়েলি জিম্মি নেই, বলে নিশ্চিত করেছে রেড ক্রস ও আইডিএফ।
এই মুক্তির মাধ্যমে গাজা যুদ্ধের অন্যতম মানবিক সংকটের অধ্যায় সমাপ্তির পথে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: বিবিসি।
এমএস/