দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা এখন খুবই ভালো।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মিশরের শারম এল-শেইখ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল, মিশর ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরবর্তী দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ফিলিস্তিনি ও মিশরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ‘মাঠ পর্যায়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা’ যাতে বন্দি বিনিময় সম্ভব হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী শনিবার বলেছেন, তিনি ‘কয়েক দিনের মধ্যেই’ জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা দিতে আশাবাদী।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে একটি স্থায়ী চুক্তি করার।’ তিনি জানান, হামাস ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
তবে হামাস এখনও নিরস্ত্রীকরণ ও ভবিষ্যতে গাজা শাসনে অংশ না নেওয়ার মতো শর্তগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি।
আলোচনায় মিশর ও কাতারের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করবেন, যেখানে তারা আলাদা আলাদাভাবে ইসরায়েলি ও হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনার দ্বিতীয় দিনটি পড়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে—যেদিন প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয় এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়।
এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৬৭,১৬০ জনের প্রাণ কেড়েছে, এর মধ্যে প্রায় ১৮,০০০ শিশু।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ‘এই ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে’।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও পরিকল্পনাটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি উপস্থিত থাকবেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, শান্তি প্রচেষ্টায় যুক্ত সবাইকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, পরিকল্পনার প্রথম ধাপ—জিম্মি মুক্তি—“এই সপ্তাহেই সম্পন্ন হতে পারে।’
এই ২০ দফা পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও ৪৮ জন জিম্মি মুক্তির কথা বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিতে পারে ইসরায়েল।
চুক্তিতে বলা আছে, উভয় পক্ষ প্রস্তাবে সম্মত হলে গাজায় ‘তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে’।
এছাড়া হামাসকে গাজা শাসনে কোনো ভূমিকা না দেওয়ার কথাও এতে উল্লেখ আছে, যদিও ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণার “কঠোর বিরোধী” এবং সেটি কোনো চুক্তিতে ‘লিখিতভাবে নেই’।
হামাস বলেছে, তারা বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি, তবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। তারা জানিয়েছে, গাজা একটি “স্বাধীন প্রযুক্তিবিদদের প্রশাসনের’ অধীনে থাকবে, যা জাতীয় ঐকমত্য ও আরব-মুসলিম সমর্থনে পরিচালিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ এবং ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। হামাসের দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানও এবার সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
গাজায় সোমবারও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। গাজা সিটির বহু এলাকায় এখনও মৃতদেহ উদ্ধারে ব্যর্থ হচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। গাজার অসংখ্য মানুষ শহর ছেড়ে দক্ষিণের তথাকথিত “মানবিক নিরাপদ এলাকায়” আশ্রয় নিচ্ছে।
হামাসের মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ২১ জন নিহত ও ৯৬ জন আহত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি, ফলে উভয় পক্ষের দাবি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/