দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভূমিধস, বজ্রপাত ও বন্যায় অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে নেপালে।
রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পূর্বাঞ্চলের ইলাম জেলায়, যেখানে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামের পর গ্রাম ভূমিধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতের সীমান্তবর্তী এই পাহাড়ি জেলা চা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। শুক্রবার থেকে সেখানে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা ভোলানাথ গুরাগাই জানান, ইলাম জেলার এক পরিবারে ছয়জন সদস্য ঘুমন্ত অবস্থায় ভূমিধসে বাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
টানা বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সড়ক ধসে গেছে বা কাদায় বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান চলছে, আর স্থলপথে সেনারা মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী আরেক জেলায় ভূমিধসে আরও একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে বজ্রপাতে তিনজন এবং দক্ষিণ নেপালে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকার শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে শনিবার অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হলেও রোববার আংশিকভাবে চালু করা হয়।
রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কগুলোও ভূমিধসের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় একটি রুট আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়।
দুর্যোগের সময়টি এসেছে দেশটির সবচেয়ে বড় উৎসব ‘দশাইন’-এর পর, যখন লাখ লাখ মানুষ নিজ গ্রাম থেকে কাঠমান্ডু ফিরছিলেন। এতে সড়কগুলোতে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়।
কাঠমান্ডুর কিছু এলাকায় নদী উপচে পানি ঢুকলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। টানা বর্ষণের কারণে সোমবার পর্যন্ত জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
গত বছর একই সময়ে বন্যা ও ভূমিধসে ২২৪ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ১৫৮ জন আহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেশী ভারত ইতিমধ্যে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘নেপালে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এই কঠিন সময়ে নেপালের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে যেকোনো সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত।’
নেপাল সরকার এখনো ভারতের প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সপ্তাহান্তের এই প্রবল বৃষ্টি নেপালের মৌসুমি বর্ষার শেষ প্রান্তে এসে আঘাত হানে—যা সাধারণত জুনে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগে শেষ হয়। সূত্র: সিএনএন
এমএস/