দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে গাজা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বন্দি বিনিময়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সুযোগ ইসরায়েল ও হামাস কাজে লাগাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হন। ইসরায়েলের ধারণা, এখনো ২০ জন জীবিত এবং ২৮ জনের মরদেহ গাজায় রয়েছে।
এর প্রতিশোধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আর ২০ লাখের বেশি মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে।
এখন শার্ম আল শেখে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আছেন মিসর, কাতার ও মার্কিন প্রতিনিধিরা। আলোচনার ভিত্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা।
প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। তবে এটি সহজ নয়—কারণ পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো গভীর।
হামাস এখন আর পুরনো সংগঠন নেই। সংগঠনটি মূলত গেরিলা কৌশলে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। তারা রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে চায়, যদিও ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তাদের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য ন্যূনতম অস্ত্র রাখার সুযোগ থাকতে হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েল চায় হামাসের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে বাস্তবতার চাপে—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনমত এখন শান্তির পক্ষে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন নিজের রাজনৈতিক টিকে থাকা নিয়েই বেশি ভাবছেন। দুর্নীতির মামলায় বিচার এড়ানো, আগামী নির্বাচনে জয় পাওয়া এবং 'পূর্ণ বিজয়' ঘোষণা করা—এটাই তার মূল লক্ষ্য।
'পূর্ণ বিজয়' বলতে তিনি বোঝান—সব বন্দি ফেরত আনা, হামাসকে ধ্বংস করা এবং গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ। তবে এই তিনটি লক্ষ্যই অর্জন করা এখন প্রায় অসম্ভব।
আলোচনার আয়োজন সম্ভব হয়েছে মূলত ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপের কারণে। তিনি উভয় পক্ষকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—হামাস যদি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তবে 'ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন' দেবেন।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনার কথা অস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যা নেতানিয়াহু সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে—ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
গাজার বন্দি বিনিময় এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণই এখন আলোচনার প্রথম ধাপ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে হামাস সত্যিই শান্তি চায় কি না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। চুক্তির ভাষা ও বাস্তবায়ন কাঠামো ঠিক করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে দুই দিকেই ভয়াবহ পরিণতি আসতে পারে। হামাসের যুদ্ধকমান্ডাররা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর নেতানিয়াহুর জোটে থাকা চরম ডানপন্থীরা যুদ্ধ থামলে সরকার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—দুই বছর পর, এত রক্ত ও ধ্বংসের পরও কি শান্তির সুযোগটা কাজে লাগাবে ইসরায়েল ও হামাস?
সূত্র: বিবিসি
এমএস/