দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মানবিক সহায়তার নৌবহরের এক ইতালীয় কর্মী অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকার সময় তাকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ইতালির লরেঞ্জো আগোস্তিনোসহ বেশ কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেছেন, আটক অবস্থায় তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অস্বীকার করেছে।
সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দ’আগোস্তিনো জানান, তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কংক্রিটের ওপর হাঁটু গেড়ে ইসরায়েলি পতাকার সামনে বসিয়ে রাখা হয়। ঠান্ডায় প্রায় পোশাকহীন অবস্থায় রাখা হয়, তার জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত ও নষ্ট করা হয়, এমনকি হাত শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা হতবাক হয়েছি তাদের নিষ্ঠুরতা ও অপমানের মাত্রা দেখে। তারা সীমার শেষ পর্যন্ত গিয়েছে।’
আগোস্তিনোর দাবি, তিনি ইতালির নাগরিক হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়নি, কিন্তু যেসব দেশের নাগরিক ইসরায়েলের মিত্র নয়, তাদের অনেককে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার সেলে থাকা এক তুর্কি কর্মীর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আর তাকে দুই দিন কোনো ব্যথানাশক দেওয়া হয়নি।’
রোববার ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এসব অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, ‘সব আটককৃতের আইনি অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হয়েছে।’
আগোস্তিনো ছিলেন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র সদস্য—৪০টিরও বেশি মানবিক সহায়তা জাহাজের এই বহর গত সপ্তাহে গাজায় খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছিল। এতে জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন। ইসরায়েল জাহাজগুলো আটক করে ৪৫০ জনের মতো কর্মীকে গ্রেপ্তার করে, যাদের অনেকেই এখনো কারাগারে আছেন।
আগোস্তিনো জানান, আটক অবস্থায় থুনবার্গকেও ইসরায়েলি পতাকার সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়, আর পুলিশ ও সৈন্যরা তার ছবি তোলে। আইনজীবী লুবনা তুমা জানান, থুনবার্গ ও আরও একজন কর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা করে অপমানজনকভাবে পতাকার সামনে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়।
রোববার ইসরায়েল জানায়, গ্রেটা থানবার্গসহ ১৭০ জন কর্মীকে গ্রীস ও স্লোভাকিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আথেন্স বিমানবন্দরে পৌঁছে থানবার্গ বলেন, ‘আমরা যে নির্যাতন ও অপমানের শিকার হয়েছি তা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলতে পারি। কিন্তু সেটাই মূল বিষয় নয়। আসল বিষয় হলো—ইসরায়েল মানবিক সহায়তা বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে, যখন গাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে।’
ইসরায়েল অবশ্য দাবি করছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই গাজায় অভিযান চালাচ্ছে এবং গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আগোস্তিনো আরও জানান, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গেভির আটক কর্মীদের দেখতে আসেন এবং তাদের সন্ত্রাসী সমর্থক বলে আখ্যা দেন। তার উপস্থিতিতে প্রহরীরা আরও নির্মম হয়ে ওঠে।
বেন গেভির পরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সমালোচনা করে বলেন, ‘ফ্লোটিলার এই সন্ত্রাসী সমর্থকদের দেশে ফেরত পাঠানো ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের কয়েক মাস জেলে রাখা উচিত ছিল।’
একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন আরও কয়েকজন ফেরত আসা কর্মী। স্পেনের গোরেত্তি সারাসিবার জানান, তাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খাইয়ে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার ভিডিও দেখতে বাধ্য করা হয়।
নেদারল্যান্ডসের কর্মী মার্কো তেশ বলেন, ‘একসময় আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। তারা আমার মুখে কিছু চেপে ধরে হাত পেছনে বেঁধে দেয়।’
আরেক কর্মী রাফায়েল বোরেগো দেখান তার হাতে হ্যান্ডকাফের দাগ এবং বলেন, ‘যখনই আমরা পুলিশকে ডাকতাম, সাত-আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি কুকুরসহ আমাদের সেলে ঢুকে অস্ত্র তাক করত। প্রায় প্রতিদিনই এমন হতো।’
সোমবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, “এই প্রচারণা-নির্ভর নাটকের অংশগ্রহণকারীদের সব আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা যে মিথ্যা প্রচার করছে, তা তাদের পরিকল্পিত ভুয়া প্রচারণারই অংশ।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/