দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া ইউরোপকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যদি ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য রাশিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে, তবে মস্কো ‘সব ধরনের উপায়ে’ প্রতিশোধ নেবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, জাতীয় আদালত এমনকি আদালতের বাইরের পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের রুশ সম্পদ (মূলত ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ বন্ড) ইউরোপে আটকে রাখা হয়।
সম্প্রতি রয়টার্স ও পলিটিকোর খবরে বলা হয়, ইউরোপীয় কমিশন রাশিয়ার হিমায়িত সম্পদের অর্থ ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নের নতুন উপায় খুঁজছে। এমনকি ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা থাকা রাশিয়ার নগদ অর্থ দিয়ে রিপারেশনস লোন দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে।
এ প্রসঙ্গে মেদভেদেভ বলেন, ‘যদি এটা হয়, আমরা ব্রাসেলসের আমলারা ও যে সব ইউরোপীয় দেশ আমাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের চেষ্টা করবে—তাদের বিরুদ্ধে শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত লড়ব।’
রাশিয়ার দাবি, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা মানে পশ্চিমাদের চুরি করা এবং এতে মার্কিন ও ইউরোপীয় বন্ড ও মুদ্রার ওপর আস্থা নষ্ট হবে। তবে ইউরোপের যুক্তি—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউক্রেনে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ চালাচ্ছে মস্কো, তাই ধ্বংসযজ্ঞের দায় তাদেরকেই বহন করতে হবে।
অন্যদিকে কিছু ব্যাংকার সতর্ক করেছেন, কোনো রাষ্ট্রের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করলে ভবিষ্যতে বিদেশি সরকারগুলো পশ্চিমা বন্ডে বিনিয়োগে আস্থা হারাতে পারে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মেদভেদেভ হুমকি দিয়েছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখল করবে এবং ব্রিটেনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে—কারণ লন্ডন ইউক্রেনকে অস্ত্র কিনতে রাশিয়ার আটকে রাখা অর্থ থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রিয়া জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে এখন পর্যন্ত মোট ২৮৫ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করেছে। রুশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলে সেগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এমএস/