দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনীয় সেনারা জানিয়েছে, রুশ সেনারা প্রথমবারের মতো পূর্বাঞ্চলীয় শিল্প এলাকা দনিপ্রোপেত্রোভস্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।
ডনিপ্রো অপারেশনাল–স্ট্র্যাটেজিক গ্রুপের ভিক্টর ত্রেহুবভ বিবিসিকে বলেছেন, দনিপ্রোপেত্রোভস্কে এটাই প্রথম বড় আকারের হামলা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাশিয়ার অগ্রগতি থামানো হয়েছে।
রাশিয়া সারা গ্রীষ্ম জুড়েই দাবি করে আসছে যে তারা এই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে এবং দোনেৎস্ক থেকে আরও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। জুনের শুরুতে তারা অভিযানের ঘোষণা দিলেও ইউক্রেনীয় সেনারা বলছে, রুশ সেনারা কেবল সীমান্ত অতিক্রম করতে পেরেছে।
ইউক্রেনীয় মানচিত্র প্রকল্প ডিপস্টেট জানায়, রাশিয়া সীমান্ত পেরিয়ে দুটি গ্রাম—জাপোরিজকে ও নভোহ্রিগোরিভকা—দখল করেছে। তবে ইউক্রেনীয় সেনারা বলছে, জাপোরিজকে এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং নভোহ্রিগোরিভকায় লড়াই চলছে।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক দাবিকৃত অঞ্চল নয়। তবে এর বড় শহরগুলো, এমনকি রাজধানী ডনিপ্রোও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধের আগে এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ছিল ৩০ লাখের বেশি। ডনবাসের পর এটিই ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ভারী শিল্প কেন্দ্র।
যদিও রুশ সেনারা ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে দোনেৎস্কে কিছু সাফল্য পেয়েছে। তবে তাদের দ্রুত অগ্রযাত্রা আবারও আটকে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শান্তি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ইউক্রেন আশঙ্কা করছে, পুতিনের লক্ষ্য কেবল দোনেৎস্ক নয়, বরং দনিপ্রো নদীর পূর্বের সমগ্র ইউক্রেন দখল করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কায়া কালাস সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইউক্রেনের ভূমি রাশিয়াকে দিয়ে শান্তি চুক্তি করা আসলে একটি ফাঁদ।’
এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ব্রিটেনের সেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল টনি রাডাকিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্কসও জানিয়েছেন, এসব নিশ্চয়তা ইউক্রেনীয় সেনাদের দীর্ঘমেয়াদে সক্ষম করে তুলবে।
একই সঙ্গে ইউক্রেন সরকার ঘোষণা করেছে, ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী পুরুষদের বিদেশ ভ্রমণে আর বাধা থাকবে না। এর ফলে যারা বর্তমানে বিদেশে আছেন, তারাও দেশে আসা–যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকার বলছে, এ বয়সী পুরুষদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ নেই, কারণ গত বছর বয়সসীমা ২৫ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৬ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন।