দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জার্মানিজুড়ে শনিবারের বিক্ষোভে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া তরুণদের আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে জার্মানিতেও রাস্তায় নামছে জেন-জি প্রজন্ম। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসকের পতন ঘটে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে বিক্ষোভ রূপ নেয় দাঙ্গা ও লুটপাটে।
‘জেন জেড রেগেল্ট’ (জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে) নামের একটি প্রচারগোষ্ঠীর উদ্যোগে জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ ৩৪টি শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে সংগঠনটি। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জার্মানির অনেক তরুণ আর্থিক চাপে রয়েছেন।
জার্মান কর্তৃপক্ষের ধারণা, হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত বিক্ষোভগুলো মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হবে। তবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
জার্মানির ফেডারেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির কট্টর বামপন্থী উগ্রপন্থী মহলের কিছু অংশ এবং বিদেশি উগ্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে।
জার্মানির হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, ‘ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলো আমাদের সবার মনে আছে—লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।’
সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুরফুরস্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই দোকান বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। কয়েকটি দোকানের জানালাও তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
তরুণদের দাবি ও আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
আয়োজকদের মতে, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে তরুণ প্রজন্মের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপই এ আন্দোলনের মূল বিষয়।
মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সী স্টিভের। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের বিষয়ে সরকারের কোনো জবাব নেই। বরং তারা ব্যয় সংকোচন অব্যাহত রেখেছে এবং আমাদের ওপর আরও বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের উপেক্ষা করা বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা সমাবেশ করার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করে যাব।’
পেনশন ও সরকারি সেবার ওপর বাড়তি চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করছে জার্মানি। দেশটিতে বয়স্ক জনগোষ্ঠী অবসরে যাওয়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে, যা অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।
তবে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে এবং এটি সত্যিকার অর্থে তরুণদের আন্দোলন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণ রয়েছে।
জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার বিএসকের মহাসচিব অ্যামি কির্খহফ বলেন, ‘আমরা “জেন জেড রেগেল্ট” থেকে নিজেদের দূরে রাখছি, তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নয়। তাদের উদ্বেগ যৌক্তিক।’
বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ক্যাম্পাসের ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে চান তিনি।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘ভেতরে ঢুকে কক্ষগুলো দেখলে মনে হয়, এটি পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এখানেই আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/