দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের গুয়াংজো, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ব্রাজিলের সাও পাওলোতে এসব কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা সহজ করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি ও সংগঠন শাখা থেকে দেওয়া একটি চিঠিতে নতুন তিনটি কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে নতুন মিশনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলো বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহর। এসব অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুয়াংজোতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গেও এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
বর্তমানে চীনের বেইজিং ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশের মিশন রয়েছে। তবে গুয়াংজোর সঙ্গে এসব মিশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় দক্ষিণ চীনে কনস্যুলার ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে গুয়াংজোতে কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কনস্যুলেট চালু হলে প্রবাসীসেবা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও সহজ হতে পারে।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টেও কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পণ্যের বড় রপ্তানি গন্তব্য। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো ছিল।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, সুশাসন, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট চালু হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে কনস্যুলেট স্থাপনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি এবং ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাও পাওলো ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। সেখানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট চালু হলে লাতিন আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলোতে কনস্যুলেট স্থাপনের ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
কেএম