দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিউইয়র্ক সিটি দীর্ঘদিন ধরেই তরুণদের কাছে সুযোগ ও সম্ভাবনার শহর হিসেবে পরিচিত। তবে বাড়িভাড়া, বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন তুলনামূলক কম খরচের শহরের দিকে ঝুঁকছেন। একই সময়ে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রেডফিনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ জেন-জি তরুণ-তরুণী অন্য শহরে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ জনের গন্তব্য ছিল নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরের ফিলাডেলফিয়া।
শহর বদলের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। নিউইয়র্কে একটি বাড়ির সাধারণ বিক্রয়মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার। বিপরীতে ফিলাডেলফিয়ায় একই ধরনের বাড়ির সাধারণ মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার।
ফলে নিউইয়র্কে একটি বাড়ি কিনতে যে অর্থ প্রয়োজন, তার তুলনায় অনেক কম অর্থেই ফিলাডেলফিয়ায় বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তরুণদের কাছে কম খরচে বসবাসের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের সুযোগ ধরে রাখা এবং পরিবার ও পরিচিত সামাজিক পরিবেশের কাছাকাছি থাকার বিষয়টিও শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শুধু জেন-জি নয়, নিউইয়র্ক ছাড়ছেন মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেক মানুষও। তাদের একটি বড় অংশ হিউস্টন, ডালাস ও আটলান্টার মতো তুলনামূলক কম খরচের শহরের দিকে যাচ্ছেন।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চাকরি বা বড় শহরের আকর্ষণের পাশাপাশি বাড়ির দাম, ভাড়া এবং জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয়ও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করছে এফবিআই।
সাইবার নিরাপত্তা সাংবাদিক ব্রায়ান ক্রেবসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নেক্সাস’ নামের একটি ডার্ক ওয়েব প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য পরিচয়পত্র বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া প্রায় এক কোটি পরিচয়পত্র, ৩০ লাখ ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি এবং পাঁচ লাখের বেশি মেডিকেল কার্ডের তথ্যও সেখানে থাকার দাবি উঠেছে।
ব্রায়ান ক্রেবস জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের সময় এমন বাস্তব মানুষের পরিচয়পত্রের তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে তাঁর নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এই তথ্যের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লুইজিয়ানাভিত্তিক পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান আইডিস্ক্যান ডটনেটের নাম এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করছে এফবিআইয়ের নিউ অরলিন্স ফিল্ড অফিস। তবে তদন্ত চলমান থাকায় সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
একদিকে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহর ছেড়ে তুলনামূলক কম খরচের শহরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির অভিযোগ ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
এমএম/