দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য কাজের বড় সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ পদ খালি রয়েছে। তাই যারা বিদেশে চাকরি করতে এবং ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য জার্মানি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
সম্প্রতি দুবাইয়ে গালফ নিউজ লেভেলআপ অনুষ্ঠানে এক আলোচনায় এসব কথা জানান ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ চাকরি খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি জার্মানিতে। অর্থাৎ ইইউতে যত কর্মীর প্রয়োজন, তার প্রায় ২৫ শতাংশের চাহিদা জার্মানিতে। এতে বোঝা যায়, দেশটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা কতটা বেশি।
অপারচুনিটি কার্ড কী? দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানিতে যাওয়ার একটি পথ হলো ‘অপারচুনিটি কার্ড’ বা জার্মান ভাষায় ‘চান্সেনকার্টে’।
এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য দেওয়া একটি আবাসন অনুমতি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকেরা জার্মানিতে গিয়ে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত যোগ্য চাকরি খুঁজতে পারেন।
এর জন্য জার্মানিতে যাওয়ার আগেই কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাকরির চুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
ক্লিন্ট খান বলেন, অপারচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ পাওয়া যায়। শুরুতে সেখানে খণ্ডকালীন কাজ (Part-time Job) করা যায়। পরে যদি পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া যায় এবং কোনো নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা স্পনসর করতে রাজি হন, তাহলে উপযুক্ত ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়।
পড়াশোনা নাকি স্থায়ীভাবে বসবাস? ক্লিন্ট খান বলেন, বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রথম সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত কোন দেশে বা কোন বিষয়ে পড়বেন, তা নয়। বরং তাদের আগে ঠিক করতে হবে, তারা আসলে বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, নাকি দীর্ঘমেয়াদে অন্য দেশে গিয়ে বসবাস করতে চান।
তিনি বলেন, প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা এবং তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
কেউ যদি সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, তাহলে সেটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার জন্যই বিদেশে পড়তে যেতে চান, তাহলে পড়াশোনা শেষ করার পর কী হবে এবং কীভাবে সেখানে থাকা সম্ভব হবে, সেটি আগে থেকেই ভাবতে হবে।
কোনো দেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিজেদের লক্ষ্য, বাজেট, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করা উচিত বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, অনেকে দেশ ছাড়ার সহজ উপায় হিসেবে বিদেশে পড়াশোনাকে বেছে নেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পাঁচ বছর পর তাঁদের কী হবে, সেটি নিয়ে ভাবেন না। এটি একটি বড় ভুল।
এমনও হতে পারে, তারা এমন একটি দেশ বেছে নিলেন যেখানে পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের জন্য কাজ বা ভবিষ্যতে থাকার তেমন সুযোগ নেই।
তাই বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার আগে পড়াশোনা শেষে কী ধরনের সুযোগ পাওয়া যাবে, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।
দক্ষ কর্মীদের জন্য অন্য দেশেও সুযোগ: যেসব পেশাজীবী পড়াশোনা করতে চান না, তাদের জন্য দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ক্লিন্ট খান বলেন, জার্মানির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম রয়েছে। কানাডায় রয়েছে ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা পেশাজীবীরা বিদেশে চাকরি ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন। সূত্র: গালফ নিউজ
কে