দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের চুক্তির সমালোচনা করায় জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় হয়েছে।’
শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলার অনুমোদন দিয়ে জেলেনস্কি বিশ্বের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চান।’ এ ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি সমঝোতা করতে পারবেন।’
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পেছনে রয়েছে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তি। শুক্রবার ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখতে মস্কোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।
জেলেনস্কি এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে। তার অভিযোগ, এই অর্থ দিয়ে মস্কো আরও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রাণঘাতী হামলার পর রাশিয়া এই চুক্তিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি হিসেবে দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে নিজেদের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তেল শোধনাগারে হামলা না করতে বলা হয়েছিল। কারণ, এ ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি করে। তার দাবি, জেলেনস্কি অনেক সমঝোতা করতে পারতেন, কিন্তু কোনো কারণে তিনি তা করেন না।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা প্রকৃত অর্থে শান্তির দিকে মনোযোগ দেবে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত আছে। গত বছরের ডিসেম্বরেও ইউক্রেনে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, জেলেনস্কিকে পরিবর্তন করার সুযোগ ইউক্রেনের ভোটারদের থাকা উচিত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্বের মোট তেলজাত পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থায় হামলা বাড়ানোয় জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আরও জানান, পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতে পারে। তবে শেষের চালানটি রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে গত ১০ মাসে রাশিয়ায় দুই দফায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ডিজেল উৎপাদন আনুমানিক ৩০ শতাংশ কমেছে।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। সংস্থাটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলে রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর জন্য আয় বাড়বে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর সময় এখন নয়, ইউরোপ তা করবে না।’
কালাস জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ অনুমোদনের বিষয়ে ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। দুই নেতা অবিলম্বে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তাদের মতে, এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোও ট্রাম্পের এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। ইরান যুদ্ধের কারণে দেশটিতে পেট্রল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে এবং জনমতেও। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার। গত মাসে এই দাম ছিল ৫ দশমিক ৯৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ৩ দশমিক ৬৮ ডলার।
/অ