দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আজ রোববারও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও একাধিক ছাত্রসংগঠন।
শনিবার ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংগঠনগুলো বলেছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অথবা তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল করা হবে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগসাজশ ও ভোট চুরির অভিযোগে তার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা।
আজ সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবারের ধরপাকড়ে আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙেনি বলে দাবি করেছেন সিজেপির নেতারা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও অন্য শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্কা শিন্ডে।
শিন্ডে বলেন, ‘সরকার হয়তো ভেবেছিল, আজকের ধরপাকড়ের পর আমরা বাড়ি ফিরে যাব। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের এই ভয় দেখানো প্রমাণ করে, লড়াইয়ের অর্ধেক আমরা জিতে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করা হবে।
শনিবার রাজধানী দিল্লিতে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজেপির নেতারা আটক বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, শনিবার সকাল ১১টার দিকে দিল্লিতে অবতরণের পর বিমান থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই অভিজিৎ দিপকে ও সংগঠনের অন্য নেতাদের আটক করা হয়। এরপর তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তারা জানতে পারেননি।
দিপকের দাদির মৃত্যু হলেও তাকে শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির নেতারা। মহারাষ্ট্রে দিপকের নিজ শহরে তার দাদির মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শেষকৃত্যে অংশ নিতে তাকে ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি মুক্তি পেয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট ছিল না।
দিপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজিঙ্কা শিন্ডেকে।
এদিকে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব বিস্তৃত ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও জানান, রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবেন। পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে যেখানে তাদের আটকে দেওয়া হবে, সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আগামী সোমবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ওই দিন জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল বিরোধী জোটটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত এবং বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল।
এ ছাড়া সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি করা হয়েছে, সেসব নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।
শনিবার দিল্লিতে সিজেপির কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। তারা চারজনই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। বন্ধ রাখা হয় দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশপথ। বাতিল করা হয় ২৫০টির বেশি ট্রেন। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে রোববারও নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন অব্যাহত রাখার কথা রয়েছে।
চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে থাকা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘সব নেতাকে আটক করুন। সব তরুণকে আটক করুন। আমাদের সবাইকে আটক করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে রেখেছি, পিছু হটব না। ভারতের তরুণদের নিয়ে আমি গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যান।’
আটক হওয়ার আগে কেজরিওয়াল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মোদিজি যেখানে আপনাদের আটকাবেন, সেখানেই বসে পড়ুন। সেই জায়গাকে যন্তর মন্তরে পরিণত করুন।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন ‘সুপার ইমার্জেন্সি’তে পরিণত হয়েছে।
তবে বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্র অরাজকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। দেশ পরিচালিত হবে সংসদের মাধ্যমে, রাস্তায় বিক্ষোভের মাধ্যমে নয়।
এদিকে, মুম্বাইয়ে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি পালনকালে প্রায় ২০০ জনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও অভিনেতা ইমরান খান। আহমেদাবাদ ও চেন্নাইসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে।
/অ