দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ইরান এখন অনেক দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বুধবার রাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাজ করছেন এবং তিনি ‘খুব ভালো করছেন’।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটনের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
তবে এসব পদক্ষেপ কীভাবে এবং কোন ক্রমে কার্যকর হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করেছে।
সেন্টকম জানায়, ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতের প্রতিনিধিদের হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এ সময় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ার কথা জানায় মার্কিন সামরিক কমান্ড।
সেন্টকমের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২৫ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরান কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
তবে এসব পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য। হিসাবের পদ্ধতিভেদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অনুমানে পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়েছে বলে জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে জানা যায়। তবে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত।
এমএম/