দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া তার দীর্ঘদিনের মিত্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে জেটচালিত ড্রোনের প্রযুক্তি ভাগ করে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব ড্রোন প্রতিহত করতে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের কার্যকর উপায় সীমিত; যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেই মূলত সেগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
রাশিয়া নতুন প্রজন্মের জেটচালিত ড্রোনের প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভাগ করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তি ভাগ করে নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে। এর বিনিময়ে মস্কো পিয়ংইয়ংকে সামরিক প্রযুক্তিতে সহায়তা করে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
যুদ্ধের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ করে। পরে দেশটি রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও দেয়, যা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কিয়েভের অভিযোগ।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোও আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র উন্নয়নসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়া কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এসব সেনা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও পাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও চলছে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করার সময় আটক করা দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দিকে ইউক্রেন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, কিয়েভ গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে করা একটি চুক্তির অস্তিত্ব স্বীকার না করলে এবং এ ঘটনায় ক্ষমা না চাইলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ না টেনে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াই তাদের কাছে উত্তর কোরিয়ার ওই দুই সেনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ করেছিল। তার ভাষ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী ওই দুই ব্যক্তি দেশটির নাগরিক। এ কারণেই তাদের দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/