দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। রোববার সকালে পিভনিচনি বা নর্দার্ন ব্রিজে হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এর আগের কয়েক দিনে পিভদেননি বা সাউদার্ন ব্রিজেও একাধিকবার হামলা চালানো হয়।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের আকস্মিক কিয়েভ সফরের মধ্যেই সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটল। রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানের মুখে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতে তিনি কিয়েভে যান।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা আরও জোরদার করা হবে। এর আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, পিভনিচনি ব্রিজ দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় একটি ড্রোন সেতুটিতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুনের গোলা ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে সেতুর সড়কে বড় গর্ত দেখা যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, সর্বশেষ হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পিভনিচনি ব্রিজের সড়কে আঘাত হেনেছে রুশ ড্রোন।
দনিপ্রো নদীর ওপর কিয়েভের আটটি সেতু শহরের পশ্চিম ও পূর্ব অংশকে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার এই শহরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মেট্রো, ট্রেন ও সড়কপথে নদী পার হন। প্রায় পাঁচ লাখ যানবাহন প্রতিদিন এসব সেতু ব্যবহার করে।
হামলায় সেতু দুটি এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও ক্ষয়ক্ষতি ও যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে কাজ করছেন কর্মীরা। শহরকে সচল রাখতে অস্থায়ী পন্টুন সেতু, ফেরি সার্ভিস এমনকি নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনাও করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পৃথক রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দেশনিয়ানস্কি জেলায় একটি হিটিং মেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে গরম পানির সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন মেয়র ক্লিৎসকো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার সকালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের একটি গুদামেও রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় শহর দিনিপ্রোতে একটি যোগাযোগ স্থাপনায় হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত। এর মধ্যে ১২৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
হামলার সময় কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন মের্জ। পরে তাঁরা যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মের্জ বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ে জার্মানির সমর্থনের ওপর দেশটি নির্ভর করতে পারে।
জেলেনস্কি পরে জানান, জার্মানির সঙ্গে ১৩০ কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের নতুন সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জরুরি অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতকে সহায়তা দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
মের্জ বলেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সময়ে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে থামানো না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র একসময় ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বাড়ানোর ঘোষণার জবাবে ইউক্রেনজুড়ে হামলা আরও জোরদার করা হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এর আগে মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিলেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে শনিবার কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত কাতারিনা ম্যাথেরনোভা জানান, এই হুমকির কারণে ইউরোপের সমর্থন থামবে না। ইউক্রেনে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত বরিস রুগেও কিয়েভে থাকার কথা জানান।
এর আগে পিভদেননি ব্রিজে হামলার পর শুক্রবার কিয়েভের প্রতিরক্ষা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। মেয়র ক্লিৎসকো সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা ও আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে কিয়েভকে গুরুতর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ ড্রোন হামলায় সেতুগুলো সরাসরি ধসে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে বারবার হামলা হলে সেতুগুলো বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং এতে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়ে দীর্ঘমেয়াদে সেতুগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/