দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের সব এলাকা পুনর্দখলে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনর্দখল এবং পুরো দেশে রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এল। এর আগে গত মাসে হুথিদের আকস্মিক অভিযানে দেশটির উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নৌপথও রয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ১২ ঘণ্টায় তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় ৫০টি হামলা চালানোর জবাবে তারা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানায়ও সরকারি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শহরটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের হুথিদের শক্ত ঘাঁটি সাদা অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, ইরান-সমর্থিত হুথিরা এখনো বিভিন্ন এলাকায় অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে ইয়েমেনের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজকে ঘিরে। শহরটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রোববার হুথিরা তাইজের সঙ্গে অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ কেটে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
তিনটি ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, হুথিরা ওই এলাকা ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে তাইজ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, তাইজকে এডেন থেকে বিচ্ছিন্ন করাই হুথিদের সামরিক লক্ষ্য ছিল এবং তারা তা অর্জন করেছে।
এদিকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা। রোববার হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরাইস এলাকায় আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের কথাও দাবি করেন তিনি।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ রোববারের হামলার দাবি নিশ্চিত করেনি। এর আগে হুথিদের তেল স্থাপনায় হামলার কিছু দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল সৌদি আরব।
হুথিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার জবাবে সৌদি আরবও হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। রোববারের হামলায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথিরা। এর আগে শনিবার ইয়েমেন সরকারও সানা, সাদা ও তাইজের আশপাশে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল।
দীর্ঘদিনের সংঘাতে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে বড় ধরনের মানবিক সংকটে রয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। পরে তারা উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়।
২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে আবারও যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠে।
গত মাসে হুথিদের দ্রুত অভিযানে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি সম্ভাব্য নৌপথও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সৌদি আরবকে আবারও হুথিদের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/