দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নেই কোন যানজট ও দুর্ভোগ। দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের হাজার হাজার ঘরমুখি যাত্রীরা সহজে-স্বস্তিতে গন্তব্য স্থানে যেতে পারছেন। তবে কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন।
শনিবার (১৫ জুন) সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট, ফেরি ঘাট ও বাস টার্মিনাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় এবং ঘরমুখি একাধিক যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনায় লঞ্চে পর্যপ্ত পরিমাণ ঘরমুখি যাত্রী নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাট থেকে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের উদ্দ্যেশে ছেড়ে আসছে। দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত পরিমাণ যানবাহন থাকায় যাত্রী সহজে গন্তব্য স্থানে যেতে পারছেন।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারের জন্য ৭টি ঘাট রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৩টি বিকল বাকী ৪টি ঘাট ও ১৮টি ছোট বড় ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। কিন্ত যে পরিমাণ যানবাহন আসছে সেগুলো সহজে ফেরি পার হতে পারছে। উভয় পাড়ে কোন প্রকার যানজট নেই। বরং ফেরিগুলো যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদে ঘরমুখি এবং ঈদের ছুঁটি শেষে কর্মমুখি যাত্রীদের নদী পারাপার করার জন্য ছোট-বড় ১৮টি ফেরি স্বার্বক্ষণিক চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত উভয় পারে কোন সমস্যা হয়নি। তবে যানবাহন ও যাত্রী বেড়েছে দ্বিগুণ।
দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট এর ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট মিলে ৩৩টি ছোট-বড় লঞ্চ পালাক্রমে চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনায় এবং নিয়ম-কানুন মেনে প্রতিটি লঞ্চ যাত্রী পারাপার করছে। যাত্রীর চাপ থাকলেও কোন প্রকার দুর্ভোগ নেই এই নৌরুটে। তিনি বলেন, ঈদের ছুঁটি শেষেও কর্মমুখি মানুষের দৌলতদিয়া ঘাটে কোন দুর্ভোগ হবে না।
ঢাকা থেকে বরিশালগামী মজিবুর রহমান জুয়েল জানান, এবার টার্মিনাল ও মহাসড়কে কোন দুর্ভোগ হয়নি। দুর্ভোগ হয়নি দৌলতদিয়া নৌরুটে। খুব সহজে ঢাকা মোহাম্মদপুর থেকে দৌলতদিযা ঘাট পর্যন্ত এসেছি। হয়ত বরিশাল পর্যন্ত কোন সমস্যা হবে না। তিনি আরোও বলেন, একটি সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি পারের অপেক্ষা থাকতে হতো। ঘাটের মুখে থাকতে হতো। তবে এবার ঘাটের কোন পারে সময় নষ্ট করতে হয়নি। সহজে যেতে পারছি।
খোরশেদ আলম নামের এক যাত্রী বলেন, পুরো টাই উল্টা। পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন নদী পারাপারের পূর্বে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দুর্ভোগের কথা দেশবাসী অবগত। কিন্তু পদ্মা সেতুতে যানবাহন নদী পারাপারের পর থেকে এই চিত্র পাল্টে গেছে। বরং যানবাহন ও যাত্রীদের অপেক্ষায় ফেরি ও লঞ্চ ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকছে।
ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীগামী রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, এখন মনে হয় না ঢাকায় থাকি। কারণ ২/৩ ঘণ্টায় কর্মস্থান থেকে বাড়ীতে আসতে পারি। রাস্তায় কোন অপচয় সময় নষ্ট হয় না। তিনি বলেন, সেতু শুরু হওয়ার পূর্বে এটা ছিল স্বপ্ন। তার মানে দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকা থেকে বাড়ী আসতে পারতাম না। শিশু বাচ্চা নিয়ে ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হতো। সেতু দিয়ে যনবাহন পারের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন ঘরমুখি হতে পারছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন বলেন, এই নৌরুটে ১৮ টি ফেরি চলাচল করছে। যে কারণে কোন ভোগান্তি ছাড়াই ফেরিতে উঠে যানবাহন গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। আশা করছি কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা বাড়ি ফিরবে এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরবে।
এম