দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এক যুগ পর এসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) লিখিত আকারে জানিয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙনরোধ করার দায়িত্ব তাদের নয়। দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকা নদী ভাঙনরোধ করার দায়িত্ব রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
জানা যায়, এবারও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ রাতের আঁধারে ১২ হাজার বালু ভর্তি জিও ডাম্পিং করেছেন। ঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা নদীর পানিবৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ১ ও ২নং এবং ৬ ও ৭নং ফেরি ঘাট এলাকায় ১৫টি বাড়ির ভিটেমাটি নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙন আতঙ্কে সরে যায় অর্ধশতাধিক পরিবার।এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে ৩ শতাধিক পরিবার ও শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। হুমকির মুখে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৩ তলা ভবন।
ভাঙন শুরু হওয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ প্রথমে কয়েক দফায় ১২ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেছেন। দৌলতদিয়া ঘাট জম্মলগ্ন থেকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে লঞ্চ-ফেরি ঘাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নদী ভাঙনরোধ করার জন্য প্রতি বছর বালু ভর্তি জিও ব্যাগ, জিও টিউব ফিলিং ডাম্পি করছেন। প্রতি বছর কারণে অকারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন। তবে ৭ জুলাই লিখিত চিঠির মাধ্যমে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে জানিয়েছেন ঘাট এবং ঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকা ভাঙনরোধ করার দায়িত্ব তাদের নয়। ভাঙনরোধ করবে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড।
একাধিক এলাকাবাসী জানান, দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। তবে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট গুরুত্বহীন হয়ে পরে। এবার নদী ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া সবগুলো ফেরি ঘাট হুমকির মুখে পরলেও গুরুত্ব দিচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। অবশেষে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকায় নদী ভাঙনের দায় বিআইডব্লিউটিএ নয় বলে লিখিতভাবে জানান।
এলাকাবাসী আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটের জম্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সকল প্রকার দায়িত্ব পালন করছেন। ঘাট ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছেন সংস্থাটি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, চোখের সামনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙন আতঙ্কে শতশত বসতবাড়ি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৩ তলা ভবন। ঘাটের জম্মলগ্ন থেকে নদী ভাঙনরোধ করার দায়িত্ব পালন করছেন বিবিআইডব্লিউটিএ। কিন্ত হঠাৎ ৭ জুলাই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ আরিচা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ফেরি ঘাট এলাকা নদী ভাঙনরোধ করার দায়িত্ব তারা পালন করবেন না। এই এলাকা রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়িত্ব পালন করবেন। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে দৌলতদিয়া ঘাট জম্মলগ্ন থেকে বিআইডব্লিউটিএ এত বছর কি দায়িত্ব পালন করল।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ আরিচা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমরা শুধু ঘাট রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবো। ঘাটের পাশে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করবেন। গত কয়েকেদিন পূর্বে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি ঘাটে এসেছি পরিদর্শন করতে। ফেরিঘাটগুলো নদী ভাঙনরোধ করার জন্য আমরা সকল প্রকার দায়িত্ব পালন করবো।
এদিকে, গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সি ব্যক্তিগত অর্থায়নে ফেরিঘাট এলাকা নদী ভাঙনরোধ করার জন্য ১ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পি করেছেন।
আরএ