দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে ছিলেন রদ্রি। ২০২৪ সালে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। কিন্তু এরপরই ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (ACL) ছিঁড়ে প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সেই দুঃসময় পেরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কারও জিতলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
রোববার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের কঠিন পথচলার কথা স্মরণ করেন রদ্রি।
২০২৪ সালের ভয়াবহ চোটের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরলেও ছোটখাটো আরও কয়েকটি চোটে ভুগতে হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকাকে। তবে সব বাধা পেরিয়ে আবারও বিশ্বের সেরা মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে রদ্রি বলেন, “একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর একেবারে নিচেও নেমে যেতে পারেন। তবে কঠোর পরিশ্রম করলে জীবন শেষ পর্যন্ত তার প্রতিদান দেয়।”
নিজেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
তিনি বলেন, “আমি প্রতিকূলতা জয় করার একটি উদাহরণ। অনেক মানুষ হয়তো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না, তবু স্পেনের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা আমি সবসময় অনুভব করেছি।”
ফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। ম্যাচের প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল তাদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১৫টি শট নেয় স্প্যানিশরা, যার ১০টিই ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে লা রোজা। শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস গোল করলে নিশ্চিত হয় স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
দলের সাফল্যের পেছনে আক্রমণাত্মক মানসিকতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ মনে করেন রদ্রি।
তিনি বলেন, “এই দলের রহস্য হলো, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, আমরা জয়ের জন্য সামনে এগিয়ে যাই। জীবনে সাহস প্রয়োজন, আর জীবন সেই সাহসেরই পুরস্কার দেয়।”
বিশ্বকাপ জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এই দলটি অসাধারণ। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—এটা বলতেই অবিশ্বাস্য লাগছে। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রতিযোগিতা। আর্জেন্টিনার দলে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, তারপরও আমরা সব রেকর্ড ভেঙেছি।”
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৬৫০টির বেশি সফল পাস দেন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে নতুন রেকর্ড। তার পাস সফলতার হার ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
দুর্দান্ত সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন রদ্রি। ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে উরুগুয়ে ও ফ্রান্সের কাতারে নাম লেখায় স্পেন, আর সেই সাফল্যের অন্যতম স্থপতি হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
এমএস/