দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার লম্বা, কোঁকড়ানো চুল বিশ্ব ফুটবলের এখন অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। অনেকের কাছেই এটি তার সিগনেচার স্টাইল। তবে এই চুল না বাঁধার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন পারিবারিক গল্প।
কুকুরেয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই ম্যাচের সময়ও চুল খোলা রাখেন। কারণ, অটিজমে আক্রান্ত তার বড় ছেলে মাতেও যেন মাঠে হাজারো খেলোয়াড়ের ভিড়ে বাবাকে সহজেই চিনতে পারে। একজন বাবার কাছে এটি শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং ছেলের প্রতি দেওয়া নীরব এক প্রতিশ্রুতি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছেন কুকুরেয়া। তবে মাঠের সাফল্যের আড়ালে তার পরিবারের সংগ্রামের গল্পও নতুন করে সামনে এসেছে।
কুকুরেয়া ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লাউদিয়া রদ্রিগেজ প্রথম বুঝতে পারেন, তাদের ছেলে মাতেও'র বেড়ে ওঠা অন্য শিশুদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উত্তর খোঁজার কঠিন সময়।
অ্যামাজন প্রাইমের একটি প্রামাণ্যচিত্রে সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে ক্লাউদিয়া বলেন, 'চার বছর আগে মাতেও'র জন্ম হয়। আমরা বুঝতে পারি, অন্য শিশুদের তুলনায় ওর মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। স্কুল থেকেও তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল সেটি।'
তিনি বলেন, 'প্রতিদিন আমরা একসঙ্গে মাতেওকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম। তখন আমি রিওকে গর্ভে ধারণ করেছিলাম। প্রতিদিনই সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরতাম।'
ক্লাউদিয়ার ভাষায়, 'এক সপ্তাহেই অনেক পরিবর্তন আসে। নতুন জায়গা, নতুন সময়সূচি, নতুন খাবার—এসবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া মাতেও'র জন্য খুব কঠিন। স্কুল নেই, থেরাপি নেই—সবকিছুই ওর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।'
ছেলের অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর নিজেদেরও নতুন করে শেখার প্রয়োজন হয়েছিল বলে জানান কুকুরেয়া।
তিনি বলেন, 'আপনার সন্তান অটিজমে আক্রান্ত। এটা জানার পর বাবা-মাও প্রস্তুত থাকেন না। তাই আমাদেরও অনেক কিছু শিখতে হয়েছে।'
২০১৮ সালে পরিচয় হওয়া কুকুরেয়া ও ক্লাউদিয়া এখন তিন সন্তানের বাবা-মা। তাদের অন্য দুই সন্তানের নাম রিও ও বেলা। ব্রাইটন, চেলসি হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পুরো পথচলায় ক্লাউদিয়া সবসময় কুকুরেয়ার পাশে ছিলেন।
কেএম