দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্কোরলাইন বলছে মাত্র ১-০। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি—সব বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের গোলে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লা রোহা। প্রশ্ন হলো, কোথায় হারল আর্জেন্টিনা?
মেসিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করা লিওনেল মেসিকে কার্যত ম্যাচের বাইরে রেখেছিল স্পেনের রক্ষণ। পুরো ম্যাচে তার প্রত্যাশিত গোলের (xG) মান ছিল মাত্র ০.০৪। তিনি একটি কি-পাসও দিতে পারেননি। অধিনায়ককে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
মাঝমাঠে স্পেনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসদের নেতৃত্বে মাঝমাঠ পুরোপুরি দখলে রাখে স্পেন। দ্রুত পাসিং, হাই প্রেসিং এবং বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তারা আর্জেন্টিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা গড়ার সুযোগই দেয়নি।
রক্ষণে চোটের ধাক্কা প্রথমার্ধের শেষদিকে চোটে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার জায়গায় নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি ভেঙে যাওয়ার পর রক্ষণ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ধার কমে যায় আর্জেন্টিনার, যার প্রভাব পড়ে পুরো দলের ভারসাম্যে।
এনজোর লাল কার্ডে শেষ হয়ে যায় আশা নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেস। ১০ জন নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে নেমে স্পেনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সংখ্যাগত সেই সুবিধাই কাজে লাগিয়ে ১০৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস।
আক্রমণে চরম ব্যর্থতা ফাইনালের সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যানটি এসেছে এখানেই। টুর্নামেন্টে ১৯ গোল করা আর্জেন্টিনা স্পেনের বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, একটিও শট ছিল না লক্ষ্যে। বিপরীতে স্পেন নেয় ২০টি শট, যার ১১টিই ছিল অন টার্গেটে। এই পরিসংখ্যানই ম্যাচে দুই দলের পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
চার বছর ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখা আর্জেন্টিনার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় স্পেনের সংগঠিত ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক আধিপত্যের সামনে। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসে লা রোহা।
এমএস/