দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বছরের শুরুতে ৬০ টাকা দিয়ে কাঁচা মরচি পাওয়া যেত। অথচ এখন এটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। স্বর্ণের মতো মরিচের দাম বেড়েই চলছে। কিছুদিন আগে এর কেজি ছিল ১৫০ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ টাকা দরে। ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দামে এমন উল্লম্ফনে হতভম্ব সাধারণ মানুষ।
ঈদের আগে কাঁচা বাজারে সব থেকে দামি পণ্য হয়ে উঠছে কাঁচা মরিচ। এক লাফে কেজিতে বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ এখন ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দাম শুনে কপালে চিন্তার ভাজ পড়ছে ক্রেতাদের। এক সপ্তাহ আগেও ২০০ টাকার কম কেজি ধরে বিক্রি হয়েছে এই পণ্য। ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের এমন দাম বেড়ে যাওয়ায় হতভম্ব সাধারণ ক্রেতারা।
আজ রাজধানীর কাওরান বাজার, নাখালপাড়া সকালের বাজার এবং হাতিপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। যা কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।
এ বছরের শুরুতে প্রচণ্ড খরা, এখন অধিক বৃষ্টির কারণে ফলন বিপর্যয়ে উৎপাদন কম হওয়ায় কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে বলে বলছেন বিক্রেতারা। আর ক্রেতাদের ধারণা, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচামাল আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানায়, বাজারে কাঁচা মরিচের দাম শুনলেই গলা শুকিয়ে আসে। আগে যেখানে ২০ টাকার মরিচ কিনলে আড়াইশ গ্রাম পেতাম, সেখানে এখন ১০০ টাকা দিয়ে আড়াই শ গ্রাম নিতে হচ্ছে। বাজারে সব থেকে এখন দামি পণ্য কাঁচা মরিচ।
সাইফুল ইসলাম নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, যে জিনিসের বেশি দাম বাড়ে, আমি সেই জিনিস কিনি না। প্রয়োজনে কাঁচা মরিচ ছাড়াই রান্না হবে। এত দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনতে আমি রাজি না।
সবজি বিক্রেতা জুয়েল জানান, কাঁচা মরিচের দাম অত্যাধিক বেড়েছে। এজন্য কম করে এনেছি। দাম বাড়ায় সবাই পরিমানে কম করে নিচ্ছে। এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ আনছি, বেলা ১২টা পর্যন্ত অর্ধেকও বিক্রি হয়নি।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচের মধ্যে লাল মিশ্রিত মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকায়। আর ভালো মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায়।
বিক্রেতা ও বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের কেনাও পড়ছে বেশি। সেই তাল মিলিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা নিরুপায়। বাজারভেদে যেভাবে পণ্যের মূল্য ধরা হয়েছে তারা সেভাবে বিক্রি করছেন। কখনও কখনও কমেও বিক্রি করেন।