দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাতের আধাঁরে পেঁয়াজের মূল্যে আকাশছোঁয়া। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো মূল্যে বাড়িয়ে দিচ্ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। খোলা বাজারের বিক্রেতারা বাধ্য হচ্ছে মূল্যে বাড়াতে। আর অসহায় ক্রেতা বাধ্য হচ্ছে ক্রয় করতে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশি মূল্যের আশায় পেঁয়াজ উঠাতে শুরু করছেন অনেক কৃষক। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্যে দ্বিগুন হওয়ায় ক্রেতাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ পড়েছে। কিন্ত একই সময় বিক্রেতা এবং কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কখনও ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের গডফাদার ও সদস্যদের নাম।
এদিকে বাজারে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্য হওয়ায় অনেক কৃষক সময়ের চেয়ে অনেক আগে পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে কৃষক ভালো মূল্য পেলেও উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সুতরাং পেঁয়াজের লক্ষমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি কর্মকর্তারা।
এক নারী কৃষক বলেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ-রসুনে লোকসান হয়। এবার বাজারে বেশি দাম হওয়ায় আমরা পেঁয়াজ উঠাতে শুরু করেছি। কারণ পরে যদি দাম কমে যায়। পেঁয়াজ অসময়ে উঠালে উৎপাদন কমে যাবে এমন প্রশ্নে এই নারী কৃষক বলেন, আমরা একটি সম্মানজনক মূল্য পাব এই নিশ্চয়তা কে দেবে? পেঁয়াজের সঠিক মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে অসময়ে পেঁয়াজ উঠাতাম না। যে কারণে বাজারে বেশি দাম থাকায় অতিরিক্ত লাভের আশায় আমরা কমপক্ষে ১৫ দিন আগে পেঁয়াজ উঠাতে শুরু করেছি। আশা করি এবার পেঁয়াজে আমরা অনেক লাভবান হব।
মোছা. আসমা বেগম নামের আরেক নারী কৃষক বলেন, ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। প্রতি বিঘা জমিতে ৫০-৫৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এভাবে দাম থাকলে কৃষক এবার অনেক লাভবান হবে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ ভালো করে পাকলে বিঘা প্রতি ৭০-৮০ মণ হবে। এখন উঠালে বিঘা প্রতি ৫০-৬০ মণ হবে। তবে এই মূল্যে তখন আমরা পাব না। বাধ্য হয়ে বেশি লাভের আশায় আমরা অগ্রিম পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করছি। আশা করি এবার অনেক লাভবান হব।
মো. খালেক শেখ নামের এক কৃষক বলেন, প্রতি মণ ছয় হাজার টাকা। এমন সংবাদে আধা বিঘা জমির পেঁয়াজ উঠিয়েছি। বাজারে চার হাজার ৬০০ টাকা মণ বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, এখনও চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রয়েছে। এমন দাম থাকলে সব পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রি করব।
তিনি বলেন, ১৫-২০ দিন পর এই পেঁয়াজ উঠালে এক বিঘাতে ১০-১২ মণ পেঁয়াজ বেশি হবে। তবে এমন দাম হয়তো আমরা তখন পাব না। যে কারণে ইচ্ছা না থাকার পরও অসময়ে কাঁচা পেঁয়াজ উঠাতে হচ্ছে। এই কৃষক আরও বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি এর আগেও হয়েছে। সিন্ডিকেট না ধরে কৃষকের কাছে আসলে কী হবে। পেঁয়াজের কারসাজি বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। আইনের আওতায় সিন্ডিকেট গডফাদারদের নিয়ে আসতে হবে।
আগাম পেঁয়াজ উঠানোর পক্ষে মতামত দিয়ে একাধিক পেঁয়াজ ক্রেতারা বলেন, আসুন আমরা পুরাতন পেঁয়াজ বর্জন করি। নতুন পেঁয়াজ ক্রয় করি। তারা বলেন, নতুন পেঁয়াজে লাভবান হবে সরাসরি কৃষক আর পুরাতন পেঁয়াজে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এটা হবে সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের নিরব প্রতিবাদ।
এ সময় পাশে থাকা বয়স্ক এক ব্যক্তি বলেন, কৃষক আগাম পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করলে ক্রেতা মেনে নিচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও সরাসরি কৃষক লাভবান হবে। আর পুরাতন পেঁয়াজে কৃষক নয় সিন্ডিকেট সদস্যরা লাভবান হবে। সুতরাং নতুন পেঁয়াজ ক্রয় করতে হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, অসময়ে পেঁয়াজ উঠালে কিছুটা উৎপাদন কমে গেলেও কৃষক সরাসরি বেশি দাম পাবে। আবার এই জমিতে পেঁয়াজ উঠিয়ে হালি পেঁয়াজ অথবা ভুট্টা লাগাতে পারবে। তিনি আরও বলেন, শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো ফসলে বেশি দাম পেলে কৃষক-চাষি উৎসাহ পাবে। তবে সিন্ডিকেট নয় সরাসরি কৃষক দাম পেলে উৎপাদন বেশি হবে।
জেবি