দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেসতা নিয়ে ভুগছেন এমন অনেকেই আছেন। ট্রিটমেন্ট নেয়ার পর হয়তো কমছে কিন্তু ট্রিটমেন্ট বন্ধ করলেই আবার আগের মতন অবস্থা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকরই মেসতা (melasma) দেখা দেয়। কপালে, গালে বা নাকের উপর নরমাল স্কিনটোনের থেকে একটু গাঢ় ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়, এটাকেই মেসতা বা মেলাসমা বলে। তবে মেছতা কেন হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই আজকের প্রতিবেদনে মেছতা কেন হয় সেই সম্পর্কে জানবো:
প্রথমেই মেলাসমা বা মেসতা কতো প্রকার তা জেনে নেব:
মেলাসমা স্কিনের পিগমেন্টেশনের গভীরতা ও ধরনের ওপর নির্ভর করে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- এপিডার্মাল, ডার্মাল ও মিক্সড মেলাসমা।
সূর্যের ইউভি রে আমাদের স্কিন ড্যামেজ করে থাকে। বাহিরে বের হলে আলোতে আসলে আমাদের শরীরে মেলানিন প্রডিউস হয়। এই মেলানিন অনেকটা ছাতার মত কাজ করে থাকে, যা সান ড্যামেজ থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের বডি থেকে মেলানিন সেল ঐ সময় বেশি প্রডিউস হয়ে থাকে। কিন্তু যখন মেলানিন বেশি প্রডিউস হয়ে যায় আর মুখে ছোপ ছোপ দাগ হয়ে যায়, তখন এই দাগকে মেলাসমা বা মেসতা বলে। এছাড়া অতিরিক্ত হিটের মধ্যে থাকলেও কিন্তু মেসতা হয়ে থাকে। যেমন আগুনের হিট; রান্নাঘরে নারীদের বেশি কাজ করা হয় আর আস্তে আস্তে স্কিনে মেলাসমা দেখা দেয়।
হরমোনাল কারনেও মেসতা নারী পুরুষ সবারই হতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় ৯০% নারীর মেসতা হয়ে থাকে। কনট্রাসেপটিক পিল বা প্রেগনেন্সির সময় বা পরে হরমোনাল পরিবর্তনের ফলে মেসতা দেখা দেয়। গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই মেলাসমার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। তাই প্রেগনেন্সির সময় মেলাসমা বা মেসতা দেখা দেয়। আবার থাইরয়েডের প্রবলেম থাকলেও মেসতা হতে পারে।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, স্কিন কেয়ারের সব কিছু মেনে চলার পরও অনেকের মেসতা হচ্ছে। মূলত বেশি স্ট্রেস নিলে স্কিনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরে।
যাদের ইতিমধ্যে মেসতা আছে তাদের ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ অনুযায়ী চলার পরও কিছু বিষয় সবসময় মেনে চলতে হবে। আপনার মেসতা দেখা না দিলেও এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে মেসতা দূর করতে পারবেন। যেমনঃ বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করা, সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করা, সপ্তাহে একদিন বিশেষ যত্ন ইত্যাদি।
সকালে এবং রাতে দুই বেলা বেসিক স্কিন কেয়ার মেনে চলতে হবে। ভালোমত ক্লিনঞ্জার দিয়ে ফেইস ক্লিন করে নেয়া, টোনার, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ব্যবহার এই প্রতিটি ধাপই মেনে চলতে হবে। হ্যাঁ, এই বেসিক স্কিন কেয়ারই কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান দিতে পারে। যেমন-
প্রথমেই সানস্ক্রিনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এটি ব্যবহার না করার কারণেই কিন্তু খুব কম বয়সেই মেসতা দেখা দেয়। সানস্ক্রিন ব্যবহার না করে বাহিরে গেলে সূর্যের ইউভি রশ্মি সরাসরি আমাদের ত্বককে ড্যামেজ করে থাকে। আবার প্রচণ্ড হিটের সামনে গেলেও কিন্তু সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তাই বলা হয়, দিনের বেলা সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ঘরে থাকলেও করতে হবে। সানস্ক্রিনের পাশাপাশি ছাতা ব্যবহার করুন, আর পারলে ফুল হাতার কাপড় পরিধান করুন। এতে আপনি পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। এছাড়াও যেকোনো কসমেটিকস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সচেতন হতে হবে। এজন্য ভালো ব্র্যান্ড দেখে কসমেটিকস পণ্য কিনতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড লেখা আছে, এমন পণ্য ব্যবহার করা হয়।
১. টোনার আপনার স্কিনের পি.এইচ ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরবর্তী ধাপগুলো যাতে ভালো কাজ করে এর জন্য টোনার ত্বককে প্রস্তুত করে।
২. সিরামের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি বা এ সিলেক্ট করতে পারেন। ভিটামিন সি ডার্ক স্পট কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। আর ভিটামিন এ বা রেটিনল স্কিন সেলের টার্ন ওভার বাড়িয়ে দেয়, এতে ওপরের পুরানো কোষ উঠে গিয়ে নতুন কোষ তৈরি হয়।
৩. ময়েশ্চারাইজারের ক্ষেত্রে পিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বককে ব্রাইট করবে এমন প্রোড্যাক্ট বাছাই করুন। আর দিনের বেলা অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া মেলাসমার জন্য ক্রিমও রয়েছে। বাজারে মেলাসমাকে টার্গেট করে বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম রয়েছে যা এই ধরনের দাগ ছোপ কমাতে সাহায্য করে।
৪. মেসতা বা মেলাসমার ট্রিটমেন্ট নেয়ার পাশাপাশি যদি ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নেওয়া হয়, তাহলে তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যাবে। তাই সপ্তাহে একদিন ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার করুন। যেমন-
উপটান ত্বকে সান ড্যামেজ রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মেসতা দূর করবে এবং ত্বক টানটান করতেও অনেক সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে মূলতানি মাটিও মেসতার দাগ কমাতে বেশ ভালো কাজ করে। পাশাপাশি রোদে পোড়া দাগও দূর করে থাকে।
এছাড়াও মেছতা দূর করতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী। মেলানিনের মাত্রা বেশি হলে সাধারণত শরীরে কালো দাগ পড়ে। এর আধিক্য বাড়ার অন্যতম কারণ হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। এটি প্রতিরোধে প্রচুর পরিমাণে সবুজ ও রঙিন ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। এসব খাদ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হতে বাধা দেয়। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও ঘুম অনেক বেশি জরুরি। মেছতার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সুফল পেতে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করতে হবে।
এস