দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগ অনেকের মধ্যেই থেকে যায়। কেউ দ্রুত সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও কারও ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন অর্ধেক কমতে গড়ে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জিয়া ওয়াই. চং ও আর. ক্রিস ফ্রেলি এ গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ‘সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় অংশ নেন ৩২৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক। প্রত্যেকের অন্তত দুই বছর স্থায়ী একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায় এবং ৫৭ শতাংশ ছিলেন নারী। প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ বছর স্থায়ী হয়েছিল। গবেষণার সময় পর্যন্ত বিচ্ছেদের পর গড়ে প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গিয়েছিল।
গবেষকরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত টান পরিমাপ করেন। প্রাক্তনের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা, তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তাবোধ পাওয়া এবং অন্যান্য আবেগ এখনো কতটা কাজ করে, তা জানতে চাওয়া হয়। একই ধরনের প্রশ্ন একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘিরেও করা হয়। এর মাধ্যমে প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন একজন অপরিচিত ব্যক্তির তুলনায় কতটা বেশি, তা নির্ণয়ের চেষ্টা করেন গবেষকরা।
গবেষণার পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ মানুষের প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন ধীরে ধীরে কমে আসে। গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই বন্ধন প্রায় শূন্যের দিকে চলে যায়। অর্থাৎ, বেশির ভাগ মানুষ একসময় প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি এমন আবেগ অনুভব করা বন্ধ করেন, যা একজন অপরিচিত ব্যক্তির প্রতি অনুভূতির চেয়ে বেশি।
তবে এই প্রক্রিয়া বেশ ধীর। গবেষণা অনুযায়ী, প্রাক্তনের প্রতি আবেগগত বন্ধন অর্ধেক কমতে গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ বছর সময় লাগে। এই হিসাবকে সরলভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় প্রয়োগ করলে পুরোপুরি আবেগমুক্ত হতে প্রায় আট বছর সময় লাগতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে এই সময়ের পার্থক্য অনেক বেশি হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে আবেগগত বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যাদের মধ্যে উদ্বেগপ্রবণতার মাত্রা বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রাক্তনের প্রতি আবেগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে সন্তান থাকলে শুরুতে আবেগগত বন্ধন তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধন সন্তানহীন সাবেক দম্পতিদের তুলনায় দ্রুত কমেছে।
গবেষণায় নতুন সম্পর্কে জড়ানো কিংবা নারী-পুরুষের পার্থক্য প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি আবেগগত বন্ধন কত দ্রুত কমবে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেনি।
গবেষকেরা বলছেন, বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন সঙ্গীকে পুরোপুরি ভুলে যেতে সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারও ক্ষেত্রে আবেগ দ্রুত কমতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে বহু বছর পরও কিছুটা টান থেকে যেতে পারে।
এমএম/