দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তার কথিত স্ত্রীর করা ধর্ষণ মামলায় শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ সসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক এসএম শফিকুল ইসলামকে জেরা করেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (জেলা জজ) নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
আদালত পুলিশের পরির্দশক আসাদুজ্জামান জানান, এদিন নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য প্রদান করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তিনি এ মামলার শেষ সাক্ষী। মামলার তদন্তকারীর সাক্ষ্য প্রদানের পর মামলাটি জেরা কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলায় ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের পূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এরপর তার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। আগামী ২৩ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে সকালে ধর্ষণ মামলায় ১৪ দফায় শেষ পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুলকে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম শফিকুল ইসলাম তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্তকারী আদালতে জানিয়েছে একটি কক্ষে মামুনুল হক ঝর্ণাকে নিয়ে ওই হোটেলে ৫ ঘণ্টা ছিলেন। মামলার বাদী মামুনুল হকের বন্ধুর স্ত্রী। আদালত যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা মামুনুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় তার আইনজীবীরা জেরা কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।
তবে মামুনুলের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন জানিয়েছেন, মামলার তদন্তকারী সাক্ষ্য প্রদানের সময় তাকে জেরা করা হলে তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় আলামত কে সংগ্রহ করেছে? তিনি সংগ্রহ করেছেন দাবি করলেও কে সিলগালা করেছে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। আমরা আদালতে এ মামলার জেরার মাধ্যমে সাক্ষীদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সময় চেয়েছি। পাশাপাশি আমরা আদালতে মামুনুল হকের জামিন চেয়েছি। আদালত জানিয়েছে বিষয়টি বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যান। এ ঘটনার ২৭ দিন পর ২০২১ বছরের ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় হাজির হয়ে ওই নারী জান্নাত আরা ঝর্ণা বাদী হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে মামুনুল হক দাবি করেছিলেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে এমন দাবির স্বপক্ষে মামুনুল হক এখন পর্যন্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।
জেবি