দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিতসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে থাইল্যান্ড। গত সপ্তাহের ওই হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর আটজনকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নির্দেশনায় দেশজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সাময়িকভাবে নতুন অস্ত্র কেনার অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ রাখা, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সব আবেদন পুনরায় যাচাই এবং সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদসহ নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য কম দামে অস্ত্র কেনার সুযোগ দেওয়া নতুন ‘কল্যাণমূলক অস্ত্র’ কর্মসূচি স্থগিত করা।
এ ছাড়া দেশজুড়ে অস্ত্র বিক্রেতাদের পরিদর্শন ও বিক্রির নথি যাচাই করা হবে। শুটিং রেঞ্জগুলোতে গোলাবারুদের মজুত ও ব্যবহারের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে মামলা পরিচালনা এবং আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে অপরাধীদের শাস্তি আরও কঠোর করা, অস্ত্র বিক্রেতা ও শুটিং রেঞ্জে গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আরও ঘন ঘন নবায়নের বিধান চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
হামলায় নিহত ছয়জনের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ বাথ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে নিজের বাড়িতে দাদা-দাদিকে হত্যা করে। এরপর সে যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ত সেখানে গিয়ে গুলি চালিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা করে। পরে নিজেও আত্মহত্যা করে। ২০২২ সালের পর এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহামলার ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর ওই কিশোরের একটি এয়ারগান শিক্ষক জব্দ করেছিলেন। অনলাইনে সহিংসতামূলক কনটেন্ট দেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর কৌশল শিখেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি তার দাদার ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেসামরিক মানুষের হাতে অস্ত্র থাকার হারে থাইল্যান্ড শীর্ষে। দেশটিতে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রজনিত মৃত্যুর হারও এই অঞ্চলে ফিলিপাইনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
হামলার পর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী মাসগুলোতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে মহড়া, বুলিং বন্ধে উদ্যোগ এবং বিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর নজরদারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সার্বিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও ভয়াবহ গণহামলার পর অস্ত্র আইন কঠোর করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা ও গণহামলার হার বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে থাকলেও শক্তিশালী অস্ত্র লবি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার কারণে কঠোর অস্ত্র আইন প্রণয়নে অগ্রগতি সীমিত।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/