দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ইয আল দিন আল হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গাজার জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে প্রথম হামলা চালানো হয়। পরে কাছের একটি সড়কে থাকা একটি গাড়িতেও দ্বিতীয় দফা হামলা হয়। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মাদ আবু সালমিয়া। তবে আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরাইল দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন আল-হাদ্দাদ। হামলার পর জিম্মিদের আটকে রাখার ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে সামরিকমুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত চুক্তি বাস্তবায়নে তিনি বাধা দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেছে ইসরাইল।
‘আল-কাসসাম ব্রিগেড’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত আল-হাদ্দাদকে হামাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর তিনি সংগঠনটির অন্যতম সিদ্ধান্তগ্রহণকারী নেতা হয়ে ওঠেন।
এদিকে হামাস এখনো এ হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। আল-হাদ্দাদ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও।
গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তাদের দাবি, এসব হামলা হামাসের অবস্থান কিংবা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৮৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বে থাকা নিকোলে ম্লাদেনোভ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো ‘নিখুঁত নয়’, তবে এটি ‘আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা’ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/