দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে—তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। এসব দলে আছে পারিবার ভিত্তিক গোষ্ঠী, অপরাধী চক্র এবং নতুন মিলিশিয়া—যাদের কিছু দলকে ইসরায়েল গোপনে সহযোগিতা দিচ্ছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন।
পাশাপাশি ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম তীরের শাসক এবং হামাসের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) ভেতরের কিছু অংশ থেকেও গোপনে সহায়তা পাচ্ছে এসব দল। বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকায় নিজেদের এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে তারা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তি-পরিকল্পনায় এসব গোষ্ঠীর কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
দক্ষিণের রাফাহ এলাকায় সবচেয়ে বড় যে মিলিশিয়াদের একটি সক্রিয়, তার নেতৃত্বে ইয়াসের আবু শাবাব। তার ডেপুটি সম্প্রতি এক ভিডিওতে বলেন, তারা ভবিষ্যৎ গাজা পরিচালনায় দায়িত্ব পাওয়া আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছেন।
খান ইউনুসের কাছে সক্রিয় আরেক নেতা হুসাম আল-আস্তাল দাবি করেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা তাকে বলেছেন যে ভবিষ্যৎ গাজার পুলিশে তার দলের ভূমিকা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
আস্তাল আগে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজ করতেন। তার দল ছোট—মোটে কয়েক ডজন যোদ্ধা—তবে তারা এখন আত্মবিশ্বাসী এবং একটি সুসজ্জিত তাঁবু শহর পরিচালনা করছে। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও বলেন, খাদ্য, অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস আনার ক্ষেত্রে তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ আছে।
বলে থাকেন, ‘সারা পৃথিবীর মানুষ আমাদের সাহায্য করছে। শুধু ইসরায়েল নয়। আমাদের ইসরায়েলের দোসর বলা হচ্ছে—এটা ঠিক নয়।’ তার দাবি, তাদের এলাকা—ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে—দ্রুত বড় হচ্ছে এবং নতুন পরিবারগুলো সেখানে আসছে।
আস্তালের বক্তব্য, ‘আমরাই নতুন গাজার আগামী দিনের শক্তি। পিএ বা আমেরিকা—যে কেউ যদি আমাদের সঙ্গে যায়, আমরা সহযোগিতা করব। আমরা হামাসের বিকল্প।’
তবে গাজার বহু মানুষ—হামাসে বিরক্ত হলেও—এই বিচ্ছিন্ন, ছোট ছোট সশস্ত্র দলগুলোর উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, সরকারি কাঠামোর জায়গায় ‘গ্যাং’ প্রতিষ্ঠা ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলপন্থী এসব দলের বিরুদ্ধে লুটপাট, সহিংসতা ও এমনকি আইএস-সমর্থনের অভিযোগও আছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, এসব দলকে সহায়তা দেওয়া ‘ভালো কাজ’, কারণ এতে ইসরায়েলি সৈন্যদের ঝুঁকি কমে।
কিন্তু বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, ইসরায়েল হয়তো অতীতে করা একই ভুল পুনরাবৃত্তি করছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দার সাবেক কর্মকর্তা মিখায়েল মিলস্টেইন বলেন, ‘যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র একসময় তালেবানকে অস্ত্র দিয়েছে, পরে সেই অস্ত্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়েছে—এখানেও একই ঝুঁকি আছে।’
তার আশঙ্কা, গাজায় নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী দুর্বল হতে থাকা হামাসকে সরিয়ে দিতে সাময়িকভাবে কাজে এলেও ভবিষ্যতে তারাই ইসরায়েলের নতুন শত্রু হয়ে উঠতে পারে।
ইতিহাসও সে কথাই বলে—৪০ বছর আগে গাজায় যাকে ইসরায়েল পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, সেই সংগঠনই আজকের হামাস।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/