দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় চালানো এক বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। শনিবার গাজা সিটির ভেতরে একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের অস্ত্র উৎপাদন বিভাগের প্রধান রায়েদ সাদকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে। তিনি কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন এবং ৭ অক্টোবর গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি এলাকায় চালানো হামাসের অভিযানে একাধিক ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজার এক স্থানীয় হামাস কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে রায়েদ সাদের এক সহকারী এবং আবু ইমাদ আল-লাবান নামে আরেকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন।
ইসরায়েল গাজায় স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় হামলার বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, গাজায় স্থল অভিযানের সময় বিস্ফোরক হামলায় বহু ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার জন্য রায়েদ সাদ দায়ী ছিলেন। তিনি অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গঠিত হামাসের পাঁচ সদস্যের সামরিক নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা চালায় ইসরায়েল। ২০২৪ সালের মার্চে গাজা সিটিতে এক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার বা হত্যার চেষ্টা করা হলেও শেষ মুহূর্তে তিনি পালিয়ে যান বলে জানা যায়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইসরায়েলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন।
শনিবারের এই হামলা গাজার তথাকথিত ইয়েলো লাইনের ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত অংশে সংঘটিত হয়। ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই রেখা গাজাকে বিভক্ত করেছে। রেখার পূর্বাংশ, যা গাজার অর্ধেকের কিছু বেশি এলাকা, ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়। জীবিত ও নিহত জিম্মিদের প্রায় সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এক ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যের মরদেহ এখনো ফেরত আসেনি।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ। ওই পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, গাজায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রযুক্তিবিদদের নেতৃত্বে প্রশাসন গঠন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ভবিষ্যতে সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে গাজার দায়িত্ব হস্তান্তর এবং ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছেন। এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/