দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের নভেম্বরে দেশটির হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ঐতিহাসিক এই বিলটি পাশ হয়। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। খবর রয়টার্স
বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের আওতায় টিকটক, গুগলের ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ ১০টি বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে শিশুদের প্রবেশ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) জরিমানার বিধান করা হয়েছে।
তবে এই শাস্তি কেবল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য—কোনো নাবালক ব্যবহারকারী বা তার অভিভাবকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার বুলিং, মানসিক চাপ ও অনলাইন হয়রানির কারণে বহু কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। সেই কারণেই শিশু-কিশোরদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ আইনকে পরিবারগুলোর জন্য ‘গর্বের দিন’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই আইন প্রমাণ করে যে অনলাইন ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। এটি বিশাল পরিবর্তন আনবে। এটি আমাদের দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। এই সংস্কারের প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।’
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা হলে কিশোরদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং তাদের সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে অভিভাবকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমান অনলাইন পরিবেশ কিশোরদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানেজের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার বিলটি সংসদে পেশ করলে এর পক্ষে ১০২টি এবং বিপক্ষে মাত্র ১৩টি ভোট পড়ে। বিপুল সমর্থনের মধ্য দিয়েই আইনটি পাশ হয়, যা দেশটির আইন প্রণয়নের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নজির।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স (পূর্বতন টুইটার), রেডিটসহ একাধিক জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। তবে শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্ল্যাটফর্ম যেমন ইউটিউব কিডসকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের কয়েকজন কিশোর-কিশোরী ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফ্রান্স, স্পেন, মালয়েশিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক দেশ কিশোরদের জন্য অনুরূপ সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
এবি/