দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইতালির মনফালকোন শহরে আবারও ইসলামিক সেন্টার বন্ধকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের সাবেক মেয়র ও বর্তমান লেগা দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য আন্না মারিয়া চিসিন্ত শহরের তৃতীয় এবং শেষ ইসলামিক সেন্টারটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
চিসিন্তের দাবি, ‘জেমাত’ (Dzemat) নামক একটি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় থাকা এই স্থানটি মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল। তবে সেখানে নিয়মিতভাবে দলবদ্ধ নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, যা মিউনিসিপ্যাল বিধিমালার পরিপন্থী। এ কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও চিসিন্ত অভিযোগ করেন, মনফালকোনের কিছু ইসলামিক কেন্দ্র পশ্চিমা মূল্যবোধবিরোধী বক্তব্য ও মৌলবাদী মতাদর্শ প্রচারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তার ভাষায়, ‘আইনের শাসন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।’
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডি)। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আন্না মারিয়া চিসিন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে শহরে সামাজিক উত্তেজনা ও বিভাজন সৃষ্টি করছেন।
ইতালির পার্লামেন্ট সদস্য ও পিডি নেতা দেবোরা সেরাকিয়ানি সতর্ক করে বলেন, ‘মনফালকোনের বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘টাইম বোমা’য় পরিণত হচ্ছে। এটি শুধু মুসলিম কমিউনিটির জন্য নয়, বরং ফিনকান্তিয়েরি শিপইয়ার্ডে কর্মরত হাজারো শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’
স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি চিসিন্তের অভিযোগগুলোকে বিদ্বেষমূলক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিউনিটির নেতারা জানান, মনফালকোনেতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম বসবাস করলেও শহরে কোনো স্বীকৃত মসজিদ বা উপযুক্ত প্রার্থনাস্থল নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প জায়গায় ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের মতে, উপযুক্ত প্রার্থনার স্থান বরাদ্দ না দিয়ে একের পর এক ইসলামিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া কার্যত মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার চর্চার পথে বাধা সৃষ্টি করছে, যা ইতালির সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে আন্না মারিয়া চিসিন্ত ঘোষণা দিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে লেগা দল তথাকথিত ‘অবৈধ ইসলামিক সেন্টার’ বন্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মনফালকোনের সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালিতে আবারও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার ও রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান ও সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এবি/