দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠক করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা যখন বাড়ছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রতিনিধিদলগুলো নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে পরামর্শ করবে, তবে এই বৈঠককে তিনি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি জানান, আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণে উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ পরামর্শ প্রয়োজন। ইরান আগেই বলেছিল, এই আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদা আলাদাভাবে আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও দূত জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সর্বশেষ আলোচনা গত বছরের জুনে হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার কারণে তা ভেস্তে যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, হামলা হলে তারা শক্ত হাতে জবাব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম তেহরান এতটা চাপে রয়েছে এবং এই আলোচনা সামরিক সংঘাত এড়ানোর শেষ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫০ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির হিসাবে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৩ জন।
ইরান বহুদিন ধরেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ, এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে যাচ্ছে। ইরান তাদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার দাবি করছে এবং ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় দেশে পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
একই সঙ্গে তেহরান জানায়, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি ও ইরাকের মিলিশিয়াদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এ সমর্থন বন্ধের দাবি তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের শামিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার বলেছেন, উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে তিনি আরাঘচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও সমতা ভিত্তিক আলোচনা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, অর্থবহ কোনো সমাধানে পৌঁছাতে হলে আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আর ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিষয়ে বলেন, তার উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
প্রাথমিকভাবে বৈঠকটি ইস্তাম্বুলে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের অনুরোধে স্থান বদলে ওমানে নেওয়া হয় এবং আলোচনা কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/